মতামত || জুলাই ষড়যন্ত্র: হাসির আড়ালে হায়েনার ছায়া

মতামত || জুলাই ষড়যন্ত্র: হাসির আড়ালে হায়েনার ছায়া
শেয়ার করুন

মাহমুদুল হাসান উৎস

একাত্তরের পর বাংলাদেশ আবারও এক নতুন ধরনের আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছে—এইবার শত্রুর হাতে নেই ট্যাঙ্ক কিংবা কামান। তারা এসেছে গুজবের ঢাল, ক্যামেরার নিশানা আর ক্যাপশনের ছদ্মবুলেট নিয়ে। যুদ্ধের মাঠ বদলেছে, কিন্তু লড়াই থেমে নেই। এই যুদ্ধের যারা ‘নায়ক’ হতে চায়, তাদের মুখের হাসির আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক হায়েনাসুলভ হিংস্রতা।

একটি বিশেষ গোষ্ঠী দাবি করছে, “জুলাই ছিল গণ-অভ্যুত্থান।” তারা চায় “জুলাই ঘোষণা পত্র”—যেন কোনো রক্তমাখা কাগজ দিয়ে সন্ত্রাসবাদ বৈধতা পায়! অথচ সারাবিশ্বেই সন্ত্রাসবাদ একটি অপরাধ—এই অপরাধের জন্য ঘোষণাপত্র নয়, বিচারই প্রযোজ্য।

তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে—জুলাই আসলে কী ছিল?

  • জুলাই ছিল mass hysteria driven collective manipulation—যেখানে জনতাকে পরিণত করা হয় এক প্রকার হিপনোটাইজড বস্তুতে, যারা নিজেরাও জানে না তারা কিসের জন্য রাস্তায়।
  • জুলাই ছিল গুজব নির্ভর সাইকোলজিক্যাল অপারেশন—মৃত্যুর গুজব, ধর্ষণের গুজব, নিখোঁজের গল্প—সবকিছু একটি নির্দিষ্ট পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে ব্যবহৃত হয়।
  • জুলাই ছিল mobilization by misinformation—এমন এক মিছিল, যেখানে পদযাত্রার গতিপথ ঠিক করে দেয় ফেসবুক পোস্ট, গুজব আর ষড়যন্ত্র।
  • জুলাই ছিল গণমানসকে য়েপোনাইজ করার এজেন্ডা—এই দেশের আবেগকে করে তোলা হয় রণহাঁক, আর আবেগই হয়ে ওঠে সস্তা অস্ত্র।
  • জুলাই ছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে বিপ্লব—কারণ যারা আগুন জ্বালায়, নিজেদের রাজাকার দাবি করে তারা আসলে ইতিহাসে আগুন লাগায়।
  • জুলাই ছিল সোনার বাংলায় ওয়াহাবিজমের উত্থান—যেখানে ধর্মের নামে শান্তিপ্রিয় মানুষদের ঠেলে দেয়া হয়েছে এক তান্ডবের দিকে।
  • এবং সর্বোপরি, জুলাই ছিল একটি টেরোরিস্ট অ্যাটাক—সরকারি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা, পুলিশ হত্যা, আগুন, আতঙ্ক… এসব কিছুই টেরোরিজমের পাঠ্যবইয়ের প্রাথমিক অধ্যায়।

এই লেখায় আমরা খতিয়ে দেখব, বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাইয়ের স্থান কী—গণ-অভ্যুত্থানের? নাকি একটি ঠান্ডা মাথার ষড়যন্ত্র?

গুজব, সহিংসতা জঙ্গিপ্ররোচিত আন্দোলনের ভেতরের খেলা

মেট্রোরেলে আগুন না দিলে কিংবা পুলিশ হত্যা না করলে বিপ্লব সহজে অর্জিত হতো না”—এমন মন্তব্য করেছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আইন মেনে চললে কখনোই বিপ্লব সম্ভব নয়।

এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট—যে আন্দোলন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চায় আগুন দিয়ে, হত্যার মধ্য দিয়ে, সেটি আর গণআন্দোলন থাকে না। সেটি হয়ে যায় কৌশলগত সন্ত্রাস। এবং এই সন্ত্রাসকে রাজনৈতিক পরিভাষায় ব্যাখ্যা করা যায় ‘Post-Truth Politics’ দিয়ে—একটি সময়কাল যেখানে সত্য নয়, বরং আবেগ, উসকানি ও বিশ্বাসই বাস্তবতা নির্ধারণ করে।

জুলাই আন্দোলনের সময় আমরা এমন এক ‘post-truth বাস্তবতা’র সাক্ষী হই। ১৭ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফেসবুক গ্রুপ গুলাতে কিছু তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয় যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা চলছে। কেউ কেউ দাবি করেছে—“১০০০ জনের লাশ লুকানো হয়েছে। রক্তের বন্যা বইছে” অথচ বাস্তবতা হল, সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই নিহত হননি।

গুজব এতটাই বিস্তার লাভ করেছিল যে, পরে দেখা যায় বহু “মৃত” মানুষই দিব্যি জীবিত আছেন। এমনকি যাঁকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা মামলার “আসামি” বানানো হয়েছিল, সেই কথিত “ভিকটিম”-ও জীবিত রয়েছেন এবং গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। আবার এমনও হয়েছে মামলার বাদী একই দিনে দুই জায়গাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে!

প্রশ্ন উঠছে—এই গুজব, মিথ্যা কেন ছড়ানো হলো?

এর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে—এ ধরনের গুজব মূলত “Triggering Event” হিসেবে কাজ করে। সাধারণ মানুষের সহানুভূতি ও আবেগকে পুঁজি করেই আন্দোলনের পালে হাওয়া দেওয়া হয়। বাস্তবতা গড়া হয় মিথ্যার ভিতের ওপর। অর্থাৎ, গুজবই হয়ে ওঠে হাতিয়ার—গণতন্ত্রের নামে চালানো হয় এক সুপরিকল্পিত জঙ্গি-ধাঁচের মিথ্যা বিপ্লব।

চলুন এবার বিষয়টিকে তাত্ত্বিকভাবে বিবেচনা করি। স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে John Stuart Mill-এর কথা না বললেই নয়। তিনি বলেছিলেন—
“সত্যের সংঘর্ষেই সত্য টিকে থাকে।”

Mill-এর এই বক্তব্য আধুনিক গণতন্ত্রের একটি মৌলিক ভিত্তি। তাঁর মতে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত— যদি সেই মত ‘ভুল’ হয়—কারণ সত্যের সঙ্গে মতবিরোধ না ঘটলে সত্য নিজেই স্থবির হয়ে পড়ে।

কিন্তু সমস্যাটা দেখা দেয় তখনই, যখন মত প্রকাশের নামে ‘সত্য’ নয়, বরং গুজবই হয়ে ওঠে অস্ত্র। জুলাই আন্দোলনে এমনই এক বাস্তবতা আমরা দেখেছি—যেখানে প্রায় প্রতিটি ঘটনাই ছিল অপ্রমাণিত বিশ্বাস, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজবের ওপর দাঁড়ানো।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যা চলছে”—এই গুজব শোনা মাত্রই কিছু বিপ্লবী হায়েনার দল হামলা চালায় পুলিশের উপর। পরবর্তীতে আমরা দেখলাম—যাকে ‘নিহত ছাত্র’ বলা হচ্ছিল, সে দিব্যি বাড়ি ফিরে এসেছে।

এখানেই Mill-এর স্বাধীনতার দর্শন ব্যর্থ হয়।
Mill যে ‘মুক্ত চিন্তার স্বাধীনতা’র কথা বলেছিলেন, সেটা তথ্যনির্ভর যুক্তির সংঘর্ষ ছিল। কিন্তু গুজবের ওপর দাঁড়িয়ে করা আন্দোলন সেই মুক্তিকে রূপ দেয় অজ্ঞানতার উন্মাদনায়।

এই “উন্মাদনা” একদিকে যেমন গণতন্ত্রকে কলুষিত করে, অন্যদিকে তেমনি সত্যকে পরাজিত করে মিথ্যার অলঙ্কারে। প্রশ্ন দাঁড়ায়—গণতন্ত্রের নামে চালানো এই গুজব-স্বাধীনতা আদৌ কি স্বাধীনতা, নাকি এটি একটি নতুন প্রজন্মের বুদ্ধিহীনতার বিপ্লব?

ফ্রিডরিখ নিটশের ধারণা অনুযায়ী—

 যে সমাজে সত্যের চেয়ে ক্ষমতা বেশি মূল্যবান হয়ে ওঠে, সেখানে নৈতিকতা মারা যায়।

এই কথাটিই যেন হুবহু প্রতিফলিত হয়েছে জুলাইয়ের তথাকথিত “আন্দোলনে।” সেখানে আমরা এক অদ্ভুত অ্যাপ্লিকেশন দেখি—

 গুজব ছড়াও → লাশের দাবি করো → দাঙ্গা ছড়াও → দাবি আদায় করো।

চলুন ফিরে যাই সেই সময়টায়।
সরকার কি কোনো দাবি মানেনি?
আন্দোলনের শুরুতে ছাত্রদের প্রতি সরকারের মনোভাব ছিল যথেষ্ট সংযত। দাবি মেনে নেওয়ার দৃষ্টান্তও ছিল।
তাহলে কেন আন্দোলন থামেনি?
কেন পুলিশের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলতেই থাকল?
কেন রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা চালানো হলো?

উত্তরটি আসলে খুব সহজ—ক্ষমতা।

এই তথাকথিত “আন্দোলন” ছিল গণআন্দোলনের মুখোশে একটি ক্ষমতা দখলের ছক। এখানে সত্যের বা ন্যায়ের জন্য লড়াই নয়, বরং তথ্যকে বিকৃত করে, গুজবকে অস্ত্র বানিয়ে এক প্রকার তথ্য-সন্ত্রাস চালানো হয়েছে।

আর এখানেই শুরু হয় সহিংসতা ও জঙ্গি অনুপ্রবেশের নতুন পর্ব।

জুলাইয়ের ছায়ায় মাঠে নামে হিজবুত তাহরীর—যারা বহু আগে থেকেই বাংলাদেশে খেলাফত কায়েমের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমনকি কিছুদিন আগেও ঢাকার রাস্তায় তারা প্রকাশ্য শোডাউন দিয়েছে।

আরও ভয়াবহ তথ্য হল—লস্কর-ই-তৈয়বা নামক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের এক নেতা এই তথাকথিত “আন্দোলন”-এ জড়িত থাকার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে। তার দাবি—আওয়ামী লীগের পতনের পেছনে তাদের ভূমিকা ছিল। সেই জঙ্গি নেতা আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হুঙ্কার ছুঁড়েছে।

সুতরাং প্রশ্ন ওঠে—এটা কি গণআন্দোলন?
নাকি হাইব্রিড জিহাদ—যার এক হাতে গুজব আর অন্য হাতে ক্ষমতার লালসা?

জাতিসংঘ, গোয়েন লুইস এবং “Regime Change Doctrine”-এর অদৃশ্য ছায়া

আসুন, জাতিসংঘকে নিয়ে এবার একটু খোলাখুলি কথা বলা যাক। এই সংস্থাটি আর আগের মতো কোনো নিরপেক্ষ মানবাধিকার রক্ষাকর্তা নয়। সময়ের পরিক্রমায় এটি হয়ে উঠেছে পশ্চিমা কূটনীতির এক ছায়া-সংস্থা, একরকম বৈশ্বিক “পাওয়ার ব্রোকার”, যার কাজ কেবল বিশ্বের শক্তির ভারসাম্য রক্ষা নয়, বরং কোথায় কীভাবে ক্ষমতার পালাবদল ঘটানো যায়—তা নিয়েও গভীরভাবে জড়িত।

সম্প্রতি জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস একটি এমন মন্তব্য করে বসেছেন, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিধি স্পষ্টভাবে লঙ্ঘন করে। তিনি বলেছেন, “নির্বাচনে আওয়ামী লীগ না থাকলেও সেটিকে ইনক্লুসিভ ধরা হবে।” এই বক্তব্য শুধু বিস্ময়ের নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বিশেষ বার্তা দেয়। দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের অনুপস্থিতিতে যদি নির্বাচন ‘গ্রহণযোগ্য’ হয়, তবে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নতুন করে লিখতে হবে। যদি অর্ধেক ভোটারের প্রতিনিধি বাদ পড়ে যায়, তবুও যদি নির্বাচন বৈধ হয়—তবে জাতিসংঘের ‘মানবাধিকার’ আর ‘গণতন্ত্র’ নিছক শব্দের খেলা ছাড়া কিছু নয়।

এই বক্তব্য একদিনের বিচ্যুতি নয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার শাখার প্রধান ভল্কার তুর্ক কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়াই জুলাই আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মৃতের সংখ্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছেন, যা সর্বৈব মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। একটি রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রত করতে এমন জাল তথ্য ছড়ানো নিশ্চিত রূপে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রশ্ন জাগে—তাহলে এই মিথ্যা তৈরি হচ্ছে কোথা থেকে, কারা এই প্রপাগান্ডার আড়ালে কাজ করছে?

আবারও আসা যাক গোয়েন লুইসে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে কিছু ছবি, যেখানে গোয়েন লুইসকে দেখা যাচ্ছে জুলাই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে হাসিমুখে, ঘনিষ্ঠ ভঙ্গিতে। এর মধ্যে আছেন আলোচিত আলোকচিত্রশিল্পী শহীদুল আলম, যিনি আন্দোলনের সময় বারবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বলেছিলেন, “Bangladesh is under siege.” সেই সময় হঠাৎ করেই শুরু হয়েছিল GoPro ক্যামেরা, স্টেজ সাজানো, বিদেশি মিডিয়ায় কাভারেজ—যেন সবকিছু পূর্বনির্ধারিত।

এই গোয়েন লুইস এবং তার সংগঠনের লোকজন আন্দোলনকে বলেছিলেন, “An expression of youth frustration.” এটি নিছক পর্যবেক্ষণ ছিল না। এটি ছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের তরফ থেকে একটি ন্যারেটিভের অনুমোদন। গোয়েন লুইস বা জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য আর এমন সম্পর্ক কেবল তৎক্ষণাৎ সংকেত নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি এক ছকের অংশ, যেটিকে পশ্চিমা কূটনীতি বলে “Controlled Chaos Doctrine”।

এই ডকট্রিনের ধরন স্পষ্ট: প্রথমে অস্থিরতা সৃষ্টি করা, পরে নির্বাচিত সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলা এবং শেষপর্যন্ত একটি বিদেশি-মালিকানাধীন সমাধান চাপিয়ে দেওয়া। এর বাস্তবায়নে মাঠে নামে পরিচিত মুখগুলো—‘সিভিল সোসাইটি’, এনজিও ব্যবসায়ী, শিক্ষিত মিডিয়া মুখ, ছাত্র অ্যাক্টিভিস্ট। এদের কাজ হলো মাঠ গরম রাখা, প্রচারণার জ্বালানি সরবরাহ করা, এবং ভুয়া তথ্যকে ‘তথ্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

এই মুহূর্তে গোয়েন লুইস যেন হয়ে উঠেছেন জাতিসংঘের ডিপ স্টেটের মুখ্য এজেন্ট। তাঁর অবস্থান, মন্তব্য এবং সম্পর্ক—সবই বাংলাদেশে “Regime Change Doctrine”-এর বাস্তবায়নের ইঙ্গিত বহন করে। মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ছবি, বন্ধুত্বপূর্ণ আলিঙ্গন, উৎসবমুখর হাসিমুখ—এসবই একেকটি “signaling device”। আন্তর্জাতিক মহলে এর অর্থ স্পষ্ট: “আমরা আপনাদের ন্যারেটিভ মেনে নিচ্ছি। আমরা আপনাদের পাশে আছি।”

কিন্তু এই সিগন্যাল কার উদ্দেশ্যে? যারা এমন আন্দোলনের অংশ যেখানে মিথ্যা লাশের গুজব ছড়ানো হয়, যারা সহিংসতা ছাড়া সফলতা মানে না, যেখানে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরীর ও লস্কর-ই-তৈয়বা’র মতো শক্তি সরাসরি যুক্ত—তাদের পাশে দাঁড়িয়ে জাতিসংঘ আসলে কোন মূল্যবোধের প্রতিনিধিত্ব করছে?

এই প্রশ্ন নিছক সাংবাদিকের জিজ্ঞাসা নয়। এটি একটি রাষ্ট্রের, একটি জনগণের আস্থার প্রশ্ন। জাতিসংঘ কি এই প্রোপাগান্ডা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পেরেছে? নাকি নিজের অজান্তেই হয়ে উঠেছে বিকল্প ক্ষমতা ব্যবস্থাপনার অংশীদার?

এই লেখা কেবল অভিযোগের দলিল নয়। এটি একটি বার্তা—বাংলাদেশের মানুষ বোকার রাজ্য নয়। তারা গুজবের গল্পে হাঁটে না। তারা চায় সত্য, তারা চায় জবাব।

 

লেখক পরিচিত
মাহমুদুল হাসান উৎস
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

 

Visited 8 times, 1 visit(s) today