নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেনীতে স্বাস্থ্য সহকারি পদে চাকুরি প্রত্যাশীর কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলন ও এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ফোনালাপের ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
এদিকে, ঘুষ দাবির বিষয়টি প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরশুরাম থানার ওসি নুরুল হাকিম।
জানা গেছে, আগামী ২০শে জুন ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে স্বাস্থ্য সহকারি পদে নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সেই নিয়োগকে কেন্দ্র করে জেলার পরশুরাম উপজেলার এক চাকুরি প্রত্যাশির কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বৈছা আন্দোলনের পরশুরাম উপজেলার ছাত্র সমন্নয়ক নাহিদ রাব্বি।
নাহিদ রাব্বিকে গত ৫ই আগস্টের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের সঙ্গে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভাসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অতিথির আসনে বসতে দেখা যায়। এ ছাড়া বৈছা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারাসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেছে তাকে।
কল রেকর্ডিংয়ে বলতে শুনে যায়, লিখিত পরীক্ষার আগে বৃহস্পতিবারের (১৯শে জুন) মধ্যে ৪ লাখ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। বাকি টাকা পরীক্ষার পর দিতে হবে। এ সময় হৃদয় নামে এক ব্যক্তি ২ লাখ টাকা কম দিতে চাইলে সমন্বয়ক রাব্বি বলেন, ১০ লাখ টাকা থেকে এক পয়সাও কম হবে না।
চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পর টাকা পরিশোধ করবেন, হৃদয় এমন কথা বললে নাহিদ রাব্বি বলেন, বাংলাদেশে এসব চলে না। টাকা ছাড়া কিছুই হবে না। অগ্রিম টাকা দিলে চাকরি নিশ্চিত হবে। এরপর হৃদয় নামে ওই যুবক বাসায় গিয়ে তার বাবার সঙ্গে কথা বলে টাকা পরিশোধ করবেন বলে কথা দেন।
এ বিষয়ে বৈছা আন্দোলন ও এনসিপির উপজেলা সমন্বয়ক নাহিদ নাহিদ রাব্বি বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে বলেন, কে বা কারা আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সবার প্রচেষ্টায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমরা চেষ্টা করলেও কোনো এক অপশক্তি তা রুখে দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এআই দিয়ে ভুয়া অডিও বানিয়ে বিভিন্ন ফেক আইডি পেজে পোস্ট করে যাচ্ছে, তা দুঃখজনক। সবাই সচেতন থাকবেন।
ফেনী সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০শে জুন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে বিভিন্ন পদের নিয়োগ পরীক্ষা। ১১৫টি পদের জন্য ১২ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। প্রতিটি পদের জন্য লড়াই করবেন ১০৮ জন।
