ঠিক ২৫ বছর আগে জুন মাসে টেস্ট মর্যাদা লাভ করেছিলো বাংলাদেশ। আগামী ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদার ২৫ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তি হয়েছিল যে সভাপতির হাত ধরে সেই সাবের হোসেন চৌধুরী ও প্রথম টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় রাজনৈতিক কারণে আজ কোণঠাসা, উপেক্ষিত।
আগামী ২৬ জুন টেস্ট মর্যাদা প্রাপ্তির ২৫ বছর পূর্তির আয়োজন করতে যাচ্ছে বিসিবি। নতুন সভাপতি হয়ে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা আমিনুল ইসলাম বুলবুল এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
তার উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও তিনি এই আয়োজন করতে চলেছেন খন্ডিতভাবে। ২০০০ সালে ক্ষমতায় ছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার। সেই সরকারেরই কূটনৈতিক সাফল্যে টেস্ট মর্যাদা পায় বাংলাদেশ।
তখন বিসিবি সভাপতি ছিলেন সাবের হোসেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পদক সৈয়দ আশরাফুল হক। জানা গেছে আশরাফুল এই আয়োজনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেলেও সাবেরকে বলা হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সাবেক মন্ত্রী সাবের ঢাকাতেই আছেন। তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিলো, আদালতে মব দিয়ে লাঞ্চিতও করা হয়। তবে একদিন পরই আন্তর্জাতিক চাপে মুক্তি পান সাবের। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের ঢাকাতেই আছেন।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সাংসদ ছিলেন দুর্জয়। ২০২৩ সালে তিনি সাংসদ না হলেও যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। তবে ৫ অগাস্ট সরকার পতনের পর একাধিক মামলায় আসামী হওয়া দুর্জয় দেশে থাকলেও প্রকাশ্যে আসছেন না।
দুর্জয়ের নেতৃত্বে ২০০০ সালের নভেম্বর মাসে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্ট খেলে বাংলাদেশ। ফর্মের কারণে শুরুতে সেই টেস্টের স্কোয়াডে ছিলেন না বুলবুল। দুর্জয়ের তীব্র চাওয়াতে দলে আসেন বুলবুল। খেলেন ১৪৫ রানের ইতিহাস গড়া ইনিংস। দুর্জয় অফ স্পিনে নেন ৬ উইকেট। যা টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ৫ উইকেটের রেকর্ড।
যে সতীর্থের কারণে অভিষেক টেস্ট খেলেছিলেন বুলবুল সভাপতি হয়ে সেই সতীর্থকে আর স্মরণ করতে চান না তিনি। কারণ একটাই-রাজনীতি!
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা বলছেন টেস্ট মর্যাদার পেছনে মূল যাদের অবদান তাদের বাদ দিয়ে উৎসব আয়োজন একটা তামাশা ছাড়া কিছু নয়।
