নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছ থেকে পদক গ্রহণের পর সনদ হাতে লন্ডনের রাজকীয় আয়োজনে ড. ইউনূসের ফটোসেশন সামাজিকমাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে। রাজকীয় অভিজাত পরিবেশে গণমান্য ব্যক্তিবর্গের পাশে দাঁড়ানো ইউনূসের এমন উদ্ভট উপস্থিতি নিয়ে তীর্যক মন্তব্য ও ব্যঙ্গ ঝরে পড়ছে অন্তর্জালে। যেখানে অন্যরা স্বাভাবিক অবস্থায় রাজার সাাথে দাঁড়িয়েছেন, সেখানে ড. ইউনূসের সনদ প্রদর্শন নিয়ে চলছে ব্যাপক হাস্যরস, ট্রল ও সমালোচনা।
ছবিতে দেখা যায়, ড. ইউনূস একটি সুসজ্জিত কাঠের ফ্রেমে সনদ ধরে আছেন। কিং চার্লস, ডেভিড বেকহ্যাম, হলিউড তারকা মেরিল স্ট্রিপসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের পাশে ইউনূসের এমন বেমানান অবস্থান অনেকে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং রাজকীয় পরিবেশের ‘রীতি-আচার বহির্ভূত’ বলেও মন্তব্য করছেন। বিশেষ করে তার এমন ঘরোয়া পরিচ্ছদ এবং সনদ প্রদর্শন নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে দেশে-বিদেশে, বিভিন্ন ফোরামে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই ছবি নিয়ে রসিকতা করতে দেখা গেছে রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেককেই।
কেউ লিখেছেন, “ফটোসেশনের জন্য ইউনূস সাহেব যেন ভুল জায়গায় ঢুকে পড়েছেন।” কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, “এই পদকের অস্তিত্বই তো প্রমাণিত নয়, তাহলে এত আয়োজন কেন?”
আরেকজন লিখেছেন, “পুরস্কারের নাম, আয়োজন, ওয়েবসাইটে অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে এটা একটা সাজানো নাটক মনে হচ্ছে, শুধু ইউনূস সাহেবকে একজন আন্তর্জাতিক সম্মানপ্রাপ্ত নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা দিতে।”
তবে এই ফটোসেশনে ডেভিড বেকহ্যাম, কেট উইন্সলেট, মেরিল স্ট্রিপদের মতো আইকনিক মুখদের পাশে দাঁড়িয়ে ইউনূস যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা করে নিচ্ছেন, সেটাও কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখছে।
এদিকে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, “এই পুরস্কারের কি কোনো সার্বজনীন স্বীকৃতি আছে? না কি এটা রাজা চার্লসের ব্যক্তিগত অনুগ্রহ মাত্র?” কারণ, কিংস ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে ‘হারমনি অ্যাওয়ার্ড’-এর কোনো নির্দিষ্ট পেজ নেই, এমনকি বিজয়ীদের তালিকাতেও ইউনূসের নাম দেখা যায়নি।
রাজনৈতিকভাবে এই ফটোসেশন ও সফরের ব্যয় নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইউনূসের সফর দল ও তার ব্যয়ভার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। এর মধ্যে এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নতুন করে বিতর্কে ঘি ঢালল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ছবির মাধ্যমে একদিকে ইউনূসের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদার করার প্রচেষ্টা স্পষ্ট হলেও, বাংলাদেশে তা কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, সেটা এখন বড় প্রশ্ন।
