পরিবারের দাবি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’, তবুও শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে বিএনপির মামলা

পরিবারের দাবি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু’, তবুও শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে বিএনপির মামলা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বগুড়ার শাজাহানপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ফোরকান আলী (৪৭)। তার পরিবার শুরু থেকেই এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে দাবি করলেও বিএনপির এক স্থানীয় নেতা আদালতে হত্যা মামলা করেন। সেখানে প্রধান আসামি করা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

পরিবারের আপত্তি, মামলা প্রত্যাহারের আবেদন এবং লাশ উত্তোলনে বাধা সত্ত্বেও মামলার তদন্ত ও গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফোরকান আলীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৫৬০ জনকে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নাম উল্লেখ করা হয়েছে ১৬০ জনের।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় এজাহারনামীয় এবং তদন্তে পাওয়া মোট ৮০ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ গত শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি আলাল উদ্দিনকে (৪৮)। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ফোরকান আলী ছিলেন যুবদলের খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক এবং ঘাসিড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা টিএমএসএসে চাকরি করতেন।.

২০২৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর সকালে শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ দাবিতে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় ফোরকান রাস্তাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যান এবং সেখানেই মারা যান বলে জানান স্বজনেরা।

ফোরকানের বাবা আবদুল কুদ্দুস ও ভাই গণমাধ্যমকে জানান, তার মৃত্যুতে কোনো গুলি বা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

তারা বলেন, রাজনৈতিক চাপ থাকলেও তারা কোনো মামলা করেননি, কারণ এটি ছিল প্রাকৃতিক মৃত্যু।

এরপর গত বছরের ১লা নভেম্বর খোট্টাপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইউনুস আলী হলুদ আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৬০ জনের নাম উল্লেখ করে মোট আসামি করা হয় ৫৬০ জনকে।

মামলার পর কবর থেকে ফোরকানের লাশ উত্তোলনের জন্য আবেদন করা হলে তার বাবা আদালত ও পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে বাধা দেন। একইসঙ্গে তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদনও জানান। তবে আদালত সেই আবেদন আমলে না নেওয়ায় মামলার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদ করিম বলেন, “পরিবার মামলা না করলেও দলের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা হয়েছে। বাবা আবদুল কুদ্দুস মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন করলেও আদালত তা খারিজ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “সর্বশেষ সুজাবাদ পূর্বপাড়ার বাড়ি থেকে কৃষক লীগ নেতা আলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তদন্তে প্রাপ্ত আসামি। তাকে রোববার আদালতে হাজির করা হলে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।”

এ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।

Visited 44 times, 1 visit(s) today