অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচারী ভাষায় কথা বলছে: আমীর খসরু

অন্তর্বর্তী সরকার স্বৈরাচারী ভাষায় কথা বলছে: আমীর খসরু
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য ও কার্যক্রমে স্বৈরাচারী মনোভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকার এখন স্বৈরাচারে পরিণত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করছে এবং দেশ ও জনগণকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদ আয়োজিত “অন্তর্বর্তী সরকারের দশ মাস—গণতন্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমীর খসরু বলেন, “হাজার হাজার প্রশাসনিক সংস্কার করে কোনো লাভ হবে না, যদি রাজনৈতিক সংস্কারে পরিবর্তন না আসে। দেশের মানুষ পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার যদি সেটি দিতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের আস্থাও থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার পতনে ছাত্র-জনতা, বিএনপি এবং সামরিক বাহিনী একসঙ্গে কাজ করেছিল। নতুন সরকারের প্রতি তখন সবার সমর্থন ছিল, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ যেন দেশের মালিকানা ফিরে পায়—সেই আশা ছিল। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের দশ মাস পার হলেও মানুষ এখনো অধিকারহীন অবস্থায় রয়েছে।”

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করেন, তাহলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনী রোডম্যাপ দিন। নির্বাচন এবং বিচার বা সংস্কার একে অপরের পরিপন্থী নয়, বরং এগুলো একসাথে চলতে পারে। তাহলে ভয় কোথায়? নির্বাচন দিতে ভয় কিসের? যাদের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তারাই নির্বাচন থেকে পালাতে চায়।”

আলোচনায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “দশ মাস পার হলেও ‘জুলাই হত্যাকাণ্ড’-এর বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বিচার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরকার এখতিয়ার-বহির্ভূত হস্তক্ষেপ করছে, যা দৃষ্টিকটূ। সচিবালয়ও এখন উত্তপ্ত।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সরকারের এই অতিরিক্ত এখতিয়ার কে দিয়েছে? নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে চিন্তা করা উচিত, না-কি নিজের সীমা না জেনে অকারণে হস্তক্ষেপ করা?”

আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান মঞ্জু বলেন, “বর্তমান সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থতার কারণেই এখন পালানোর প্রস্তুতি চলছে। ড. ইউনূসও একইভাবে রণে ভঙ্গ দেওয়ার কথা বলছেন। অথচ রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনকালীন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে—তাহলে সমস্যা কোথায়?”

কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দশ মাসেও তারা কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে পারেনি। সরকারের মনোভাব এখনও অস্পষ্ট। উপদেষ্টা পরিষদের অনেক সদস্য অভিজ্ঞ ও জ্ঞানী হলেও তারা কি বোঝেন না কোনটা তাদের এখতিয়ার, আর কোনটা নয়?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয় গঠন, করিডোর ও বন্দর ব্যবস্থাপনা বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া, এমনকি এনবিআরের ভাগাভাগির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসবই এখতিয়ার-বহির্ভূত। নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে—প্রথমে সেটি ঠিক করুন। অন্যথায় দেশের সংকট আরও গভীর হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পরিষদের সমন্বয়ক শেখ আব্দুন নুর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্যসচিব বাবর চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নেতারা।

Visited 47 times, 1 visit(s) today