গায়েবী মামলা না, ইরেশ যাকেরের জন্য নীরবতা ভেঙ্গে সরব হচ্ছেন শিল্পী নির্মাতারা

গায়েবী মামলা না, ইরেশ যাকেরের জন্য নীরবতা ভেঙ্গে সরব হচ্ছেন শিল্পী নির্মাতারা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই ছাত্র আন্দোলনে শিল্পী সমাজ ছাত্রদের ত্রাণকর্তা হয়ে পথে নেমে এসেছিল। শিল্পীদের অংশগ্রহনে একদিনেই ছাত্র আন্দোলনের গ্রহনযোগ্যতা তুঙ্গে উঠে গিয়েছিল। দিনটি ছিল ১লা আগস্ট, ২০২৪। প্রচন্ড বৃষ্টি মাথায় নিয়ে সেদিন রাস্তায় নেমেছিলেন শিল্পীরা। সেই শিল্পী সমাবেশের মূল আয়োজক ও সংগঠক ইরেশ যাকেরের নামে জুলাই শহিদ হত্যার মামলা হয়েছে ২০শে এপ্রিল।

গত ৯ মাসে এমন গায়েবী মামলা অহরহ হয়েছে, হাজার লোক গ্রেফতার হয়েছে। রাষ্ট্রের বিগত প্রধান মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট লোকজনের নামে মুড়ি মুরকির দরে মামলা হয়েছে। একাধিক শিল্পী খেলোয়ার ছিল মামলার আসামীর তালিকায়। সাকিব আল হাসান পরিবারের সাথে কানাডায় ছুটি কাটানোর সময় বাংলাদেশ হওয়া হত্যায় আসামী হয়েছেন।

ইরেশ যাকেরের উপর হওয়া মামলার বিরুদ্ধে সরব হচ্ছেন শিল্পী কলাকুশলীরা।

নাট্য নির্মাতা শিহাব শাহিন তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “ ইরেশ যাকের জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, আর তার বিরুদ্ধে কিনা জুলাই হত্যা মামলা!!” তিনি তার এই পোষ্টে মিথিলাকে ট্যাগ করেন, যিনি ১লা আগস্ট অন্যান্য শিল্পিদের সাথে ছাত্রদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিলেন।

শবনম ফারিইয়া ইংরেজীতে দেয়া স্ট্যাটাসে প্রতিবাদ জানিয়ে লেখানে,

আমরা সংস্কারের কথা বলছি, পরিবর্তনের কথা বলছি, কিন্তু অন্য কিছুর আগে, প্রথমে নিজের মন্দ মন পরিবর্তন করুন। দয়া করে সর্বশক্তিমানের দোহাই, এই ধরনের নির্বোধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে একটি সম্পূর্ণ আন্দোলনকে উপহাস করবেন না। আমাদের সকলের চেয়েও বড় একটি লক্ষ্যের জন্য এত প্রাণহানি হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে নয়। এই আন্দোলনকে আপনার নিজস্ব এজেন্ডার জন্য বিকৃত করে তাদের আত্মত্যাগকে কলঙ্কিত করবেন না।”

জুলাই আন্দোলনের এবং পরে সবচেয়ে বেশী সক্রিয় ছিলেন আজমেরি হক বাঁধন। আগস্ট পরবর্তি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের সাথে দেখা গিয়েছে তাকে, কোথায় নারীদের জন্য পথে নেমেছেন কোথাও “গরুর জিয়াফত” খেতে গিয়েছেন, কোঠাও নারীদের নিরাপত্তার জন্য মশাল হাতে রাস্তায় নেমেছেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বেশ অনেক দিন নীরব ছিলেন বাঁধন। ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে মামলা হবার খবরে সেই নীরবতা ভাংলেন বাঁধন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া স্ট্যাটাসে বাঁধন উল্লেখ করেন,

‘আমি এখন জীবনের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে আমি সঙ্গে সঙ্গেই সব কিছুর প্রতিক্রিয়া দেখাই না। তবে কখনও কখনও নীরবতা যেন বিশ্বাসঘাতকতার মতো মনে হয়।’

তিনি লিখেছেন, ‘ইরেশ সবসময় সত্যের পক্ষে থেকেছেন। ছাত্রদের সাঙ্গে, আমাদের সঙ্গে, প্রতিটি সংগ্রামের মুহূর্তে তিনি ছিলেন। ৪ আগস্ট, যখন কারফিউ ঘোষণা করা হয়, আমরা শাহবাগে একসঙ্গে ছিলাম। সব বিপদের মাঝেও তিনি নিশ্চিত করেছিলেন যে আমি যেন নিরাপদে কালসী ফ্লাইওভারে পৌঁছাতে পারি — এমন এক সময়ে যখন যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারত, তিনি বড় ঝুঁকি নিয়েছিলেন।’

৪ আগস্ট রাতের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, ‘সেই রাতে, গণভবনে যাওয়ার জন্য আমাদের উপর প্রচণ্ড চাপ ছিল। তবে ইরেশ যাকের দৃঢ়ভাবে না বলেছিলেন। তিনি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে ছাত্রদের পাশে, সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, চাপের কাছে নতি স্বীকার করেননি। আজ যখন দেখি তাকে হয়রানি করা হচ্ছে, তখন হৃদয় ভেঙে যায়। যদিও এটা আমাদের জন্য নতুন নয়— আমরা আগেও দেখেছি যারা সাহস করে দাঁড়িয়েছে, তাদের এভাবে দমন করা হয়েছে। তবুও এখন, যখন আমরা ভেবেছিলাম আমরা একটি ভাল, নিরাপদ দেশ গড়ে তুলছি, তখন এটা আরও বেশি কষ্টের এবং হতাশাজনক।’

সবাই ইরেশের পাশে আছেন জানিয়ে বলেন, ‘যারা সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তাদের রক্ষা করা উচিত, নিপীড়ন নয়। আমরা ইরেশের পাশে আছি। আমরা তাদের পাশেই আছি, যারা কখনও আশা ছাড়েনি।’

Visited 135 times, 1 visit(s) today