নিজস্ব প্রতিবেদক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের আয়োজিত সুধী সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য থামিয়ে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক সাবেক সংসদ সদস্য।
শনিবার বিকেলে শহরের শহিদ সাটু অডিটরিয়ামে এই ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ইউনিটের সাবেক সহকারী কমান্ডার মো. তরিকুল আলম অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক আন্দোলনের তুলনা না করার আহ্বান জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সুধী সমাবেশের এই ঘটনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মনোভাবের প্রকাশ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য চলাকালে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান সামনের সারি থেকে উত্তেজিত হয়ে উঠে এসে চিৎকার করে তার বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন। এই সময় পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এসে মাইক্রোফোন সরিয়ে নেন।
বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল আলম। পরে তিনি বলেন, “আমি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের কথা বলছিলাম। আমাকে বলতে দেওয়া হলো না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
ঘটনার সময় রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং জেলা পুলিশ সুপার রেজাউল করিম উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত, হঠাৎ ঘটে গেছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত করেছিল। দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের (বর্তমানে নাম বদলে ছাত্র শিবির) নেতৃত্বে গঠিত আল-বদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সরাসরি যুক্ত ছিল।
স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধী সংগঠন জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলেও সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে দলটি ফের রাজনীতির সুযোগ পায়।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে জামায়াতের ভূমিকা ‘অমানবিক’ ও ‘মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
