নিজস্ব প্রতিবেদক
মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার পরিবর্তে ইতিহাস মুছে দেওয়ার পথে হাঁটছে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার—এমনই অভিযোগ উঠেছে শহীদদের পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। সরকার সদ্য বাতিল করেছে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধি নির্মাণ প্রকল্প।
এ সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী’ ও ‘জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিযোদ্ধা নেতা। তাঁরা বলছেন, ইউনূস সরকারের এ সিদ্ধান্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অস্বীকার করার সামিল।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০ হাজার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। বরাদ্দ ছিল ৩৯৬ কোটি টাকা। ছয় বছরেও প্রকল্পের অগ্রগতি এক চতুর্থাংশের নিচে, অথচ হঠাৎ করেই পুরো প্রকল্প বাতিল।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলছে, জায়গার অভাব, চিহ্নিত করতে না পারা ও অর্থ সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এখন বিকল্প হিসেবে ‘যুদ্ধসমাধি’র মতো কিছু করার চিন্তা চলছে।
কিন্তু মুক্তিযোদ্ধারা এসব অজুহাত মানতে নারাজ।
মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান বলেন, “এই সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাস মুছে ফেলতে চায়। সমাধি নির্মাণ না করে তারা প্রমাণ করেছে, এ দেশের জন্য রক্তদানকারীদের প্রতি তাদের কোনও শ্রদ্ধা নেই।”
একই সুরে কথা বলেন মুকিযোদ্ধা আবদুল মতিন। তিনি বলেন, “সমাধি না হলে নতুন প্রজন্ম জানবে কীভাবে কে শহীদ হয়েছে? এটি সুপরিকল্পিত মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রান্ত।”
প্রকল্পের আওতায় ৫ হাজার সমাধির কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে ৪ হাজার ১২৬টি। ইউএনওদের দেওয়া তালিকায় থাকা ১৫ হাজার সমাধির কোনও কাজই শুরু হয়নি। বেশিরভাগ ইউএনও প্রকল্প সম্পর্কেও জানেন না।
উপজেলা পর্যায়ে সমাধি নির্মাণে জায়গা না পাওয়া, নকশায় ভুল, বরাদ্দ না থাকা, পরিবারগুলোর সম্মতি না পাওয়া ইত্যাদি নানা সমস্যার কথা বলা হলেও মুক্তিযোদ্ধারা মনে করেন, এটি মূলত সদিচ্ছার অভাব।
মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে তারা দেশব্যাপী আন্দোলনে নামবে। তাঁদের প্রশ্ন, “যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিল, তাদের কবরেই যদি জায়গা না হয়, তাহলে এই রাষ্ট্রের পরিচয় কী?”
