নিজস্ব প্রতিবেদক::
ইউনুস সরকারের মব বাহিনীর হাতে রাজপথে প্রথম প্রহৃত কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব টিটো (৫৫) আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আজ ১৫ এপ্রিল, মঙ্গলবার তিনি মারা গেছেন। রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী এই কবি ও সাংবাদিক মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা। তার শেষকৃত্য সম্পাদনের জন্য মৌলভীবাজারের নিজ গ্রামে নিয়ে আসা হয়েছে।
৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে এক উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদী হিসেবে তিনি ছিলেন প্রেরণার অগ্নিশিখা। প্রতিনিয়ত তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলেছেন এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষজন শোকাহত। অনেকেই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্মৃতিচারণ করেছেন।
সৌমিত্র দেব টিটো প্রথম আলো-তে প্রদায়কের কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন দৈনিক মানবজমিন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেছেন। পরে তিনি রেডটাইমসবিডি নামে একটি অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি একজন অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ৩০টি।
কবির স্ত্রী পলা দেব জানান, সৌমিত্র কয়েকদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। আজ সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। খিলক্ষেতে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৯ অক্টোবর ইউনুস সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ও ১৫ আগস্টের ছুটি বাতিলের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ জানাতে গেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলা চালায়। তাকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপরও তিনি বর্তমান সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অকপটে কথা বলে গেছেন।
মুক্তিযুদ্ধ গবেষক হাসান মোরশেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, “৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রতিবাদ-প্রতিরোধের ইতিহাস যদি কোনোদিন লেখা হয়, কবি সৌমিত্র দেব টিটোর প্রহৃত হওয়ার ঘটনাটি সেখানে মর্যাদা পাবে।”
আমেরিকাপ্রবাসী কবি ও লেখক ফকির ইলিয়াস লিখেছেন, “সৌমিত্র, রাষ্ট্র আপনাকে খুন করে ফেললো।”
কবি ও প্রযোজক মামুন খান লিখেছেন, “গত বছরের ১৯ অক্টোবর প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশবিরোধী কিছু মব সৌমিত্র দেবের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল। তার এই অকাল মৃত্যুর পেছনে নিশ্চয়ই ওই ঘটনার প্রভাব রয়েছে।”
কথাসাহিত্যিক অদিতি ফাল্গুনী লিখেছেন, “সৌমিত্র গত জুলাইয়ের পর থেকে অসম বীরের মতো লড়াই করে গেছে। ওরই সময়ের অন্য সংখ্যালঘু বা গুরু যুবকেরা আপোষ করে সফল হয়েছে, কিন্তু সে নিজের শিরদাঁড়ার পরিচয় দিয়েই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো এত অকালে।”
এইভাবে কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব টিটোকে নিয়ে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেছেন। তার মৃত্যুতে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ লেখক, কবি, সাংবাদিক ও সুধীজন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
