নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৯ই এপ্রিল, ২০২৫: বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণের ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপিত হতে যাচ্ছে, যা অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি করছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার কক্সবাজার-মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর সংযোগ সড়ক নির্মাণে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বেশি খরচের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ২ লেনের সড়কের কিলোমিটার প্রতি নির্মাণ খরচ হবে ৪৭৬ কোটি টাকা, যা পূর্বের কোনো সড়ক নির্মাণের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে উচ্চ।
এর আগে, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ঢাকা-ভাঙ্গা ৫৫ কিলোমিটার ৪ লেনের সড়কের কিলোমিটার প্রতি ব্যয় ছিল ২০১ কোটি টাকা, যা তখন সবচেয়ে বেশি খরচের সড়ক হিসেবে গণ্য হতো। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের এই নতুন প্রকল্পের খরচ প্রায় দ্বিগুণ, যা সড়ক নির্মাণের ব্যয় নিয়ন্ত্রনে সরকারের কার্যকারিতার প্রতি সংশয় সৃষ্টি করেছে।
স্বয়ং যোগাযোগ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এই অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি কৌতুক মিশ্রিত ভাষায় জানতে চেয়েছিলেন, “এই রাস্তা কি হীরা দিয়ে বানানো হবে নাকি?” তবে দুঃখজনকভাবে, এই প্রশ্ন উত্থাপনের পরও ১২,৯৪৪ কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকরা জানাচ্ছেন যে, বাংলাদেশে কোনো প্রকল্পই প্রাক্কলিত ব্যয়ে শেষ হয় না। এই সড়ক নির্মাণও ৪৭৬ কোটি টাকায় সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যায় না; বরং খরচ আরও বাড়বে। একজন বিশ্লেষক বলেন, “এটি একটি স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। গভর্নমেন্ট যদি জাইকা (JICA) থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হয়, তবে কেন এমন একটি অর্থহানিকর চুক্তি মেনে নেওয়া হচ্ছে?”
জাপানের জাইকা থেকে ঋণ গ্রহণের শর্তে এই সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারও জাপানি কোম্পানি নির্ধারিত হয়েছে। এই বিষয়ে একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে: যদি কেউ একজন বন্ধু থেকে মোবাইল কেনার জন্য ঋণ নেয় এবং বন্ধু শর্ত রাখে যে মোবাইল কিনতে হবে তার বন্ধুর দোকান থেকে, তবে সেই দোকান ১০ হাজার টাকার মোবাইল ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করলে কি সেই চুক্তি গ্রহণযোগ্য? এই প্রশ্ন উঠছে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কিছু মানুষ অনলাইন মবের ভয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে দ্বিধায় ভুগছেন, আর যারা সমালোচনা করছেনও, তারা হিংস্রতা ও গালাগালের সম্মুখীন হচ্ছেন।
অনেকে মনে করছেন যে ড. ইউনূসের সরকারের কাজকর্মে গঠনমূলক সমালোচনা করা জরুরি, যদিও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে এখনও তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
এই প্রকল্পের কুশীলবদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একজন নাগরিক বলেন, “দুনিয়াতে কোনো পাপ বিনাবিচারে মুছে যায় না, শুধু সময় লাগে।” সরকার এই অস্বাভাবিক খরচ এবং সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণের জন্য কী করবে, তা নিয়ে সকলের নজর রয়েছে।
Visited 429 times, 1 visit(s) today
