মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় বিস্মিত বন্ধুরাষ্ট্র ভুটান!

মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞায় বিস্মিত বন্ধুরাষ্ট্র ভুটান!
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া নীতিতে নিজেদের অন্তর্ভুক্তির খবরে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেছে ভুটান। নতুন নীতির আওতায় দেশটির নাগরিকদের জন্য ভিসা সীমিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত এই খসড়া নীতিতে “জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগ” এবং “অনিয়মিত অভিবাসন”-এর কথা বলা হয়েছে, তবে বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই নতুন খসড়া নীতিতে ভুটানসহ ৪১টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদি নির্ধারিত শর্তগুলো ৬০ দিনের মধ্যে পূরণ করা না হয়, তবে আংশিক ভিসা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর থেকে ভুটানিদের ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার হার ৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। শান্তিপূর্ণ ও স্বল্প জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে পরিচিত ভুটানের জন্য এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী চেরিং তোবগে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের জন্য খুবই অপ্রত্যাশিত এবং হতাশাজনক। আমরা সবসময় শান্তিপূর্ণ নীতিতে বিশ্বাস করি এবং কখনো কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করিনি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই এবং বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে আগ্রহী।”

ভুটানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে এবং অনুরোধ জানিয়েছে যাতে তথ্যগুলোর সঠিক পর্যালোচনা করা হয়।

ভুটান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। ভুটানের জনসংখ্যা মাত্র ৭.৮ লাখ এবং দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক মিশন নেই। বরং, ভারতের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে।

ভুটানের জনগণ চিন্তিত যে এই নিষেধাজ্ঞা পর্যটন শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত।

নাগরিকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। “আমরা শান্তিপূর্ণ দেশ, আমাদের বিরুদ্ধে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো তা বুঝতে পারছি না,” বলেন থিম্পুর এক দোকানদার কিনলে দর্জি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন এবং মনে করছেন ভুটানকে ভুলক্রমে বৃহত্তর অঞ্চলের কোনো দেশের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতির কড়াকড়ির অংশ হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কূটনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। ভুটান ভারত ও চীনের মাঝে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং ভারত বরাবরই দেশটির ঘনিষ্ঠ মিত্র।

এখনো ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন নয়াদিল্লি বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। ভুটানের বিশিষ্ট গবেষক তাশী ওয়াংমো বলেন, “ভুটান সবসময় একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। আমরা আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে।”

বর্তমানে, ভুটান এই নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বিধিনিষেধ শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য অসুবিধার কারণ হতে পারে এবং একই সঙ্গে মার্কিন পর্যটকদের আগমনে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তোবগে আশ্বস্ত করেছেন, “আমরা আমাদের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধান খুঁজতে চাই।”

Visited 141 times, 1 visit(s) today