৪০০ কোটি টাকা টিউশন ফির নামে অর্থ পাচার: প্রেস সচিবের আষাঢ়ে গল্পের সত্যতা নিয়ে সংশয়

৪০০ কোটি টাকা টিউশন ফির নামে অর্থ পাচার: প্রেস সচিবের আষাঢ়ে গল্পের সত্যতা নিয়ে সংশয়
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১৩ মার্চ ২০২৫: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, এক ব্যক্তি তার ছেলের টিউশন ফি বাবদ ৪০০ কোটি টাকা বিদেশে পাঠিয়েছেন। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো একক ব্যক্তি নয়, বরং একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই দাবির সত্যতা নিয়ে ব্যাংকিং খাতে তীব্র সংশয় দেখা দিয়েছে।

দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ নির্বাহী এই পরিমাণ অর্থ স্থানান্তরের বিষয়টিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, তার ব্যাংকটি বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের সর্বাধিক হিসাব পরিচালনা করে, এবং শিক্ষার্থীদের বৈদেশিক লেনদেনে ব্যাংকগুলোকে কঠোর নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হয়। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থ বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে একাধিক স্তরে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের নামে খোলা হিসাবের তথ্য প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হয়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পর্যালোচনা করে। কোনো সন্দেহজনক লেনদেন ধরা পড়লে ব্যাংককে জবাবদিহি করতে হয়।”

সাধারণত, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক টিউশন ফি ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে থাকে। জীবনযাত্রার ব্যয়সহ মোট বার্ষিক খরচ ৬০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার সমান। এই হিসেবে, ৪০০ কোটি টাকা একজন শিক্ষার্থীর টিউশন ফি হিসেবে বিদেশে পাঠানো প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওই ব্যাংক নির্বাহী আরও জানান, “ব্যাংকগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় যাচাই করে অর্থ ছাড় করে। লেনদেনের পরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিপোর্ট পাঠানো হয়। ফলে অতিরিক্ত অর্থ পাচারের সুযোগ খুবই সীমিত। শিক্ষার্থীদের অর্থ সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টে জমা হয়, তাই অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।”

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ফেরত আনার ক্ষেত্রেও কঠোর নজরদারি রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী ভিসা না পেলে বা ভর্তি বাতিল করলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থ ফেরত আনতে হয়, যা ব্যাংকের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ৪০০ কোটি টাকার এই লেনদেন যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র আড়ালে অর্থ পাচারের একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে দেশ।

বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে এতো দায়িত্বপূর্ন পদে থেকে প্রেস সচিব শফিকুল আলম এর এই অযাচিত মনগড়া তথ্য উপাত্ত হয়তো সাধারন মানুষের কাছে আওয়ামীলীগ সরকারকে খুব খারাপ ভাবে উপস্থাপন করার একটা স্ট্রেটেজি। কিন্তু যারা একটু জানে বোঝে তারা তো ধরে ফেলবেই যে এটা মিথ্যা তথ্য, এতে অন্তর্বর্তীকালীন সকারের ইমেইজ খারাপ হচ্ছে, বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনকারীরা ইনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন, এতো এতো দিন ধরে প্রচারিত দূর্নীতির গল্প গুলোর তথ্য ভিত্তিক তদন্তের জন্য। সেটা না করে এমন ছেলে ভুলানো আষাঢ়ে গল্প ফেঁদে আসলে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

Visited 129 times, 1 visit(s) today