নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রশাসন ক্যাডার কর্তৃক পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ও বৈষম্যমূলকভাবে সাময়িক বরখাস্তের প্রতিবাদে এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ।
পরিষদের অন্তর্ভুক্ত ২৫টি ক্যাডারের সদস্যরা আজ সারাদেশের বিভিন্ন দপ্তরে এই কর্মসূচি পালন করে।
এদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের সামনে কালো ব্যাজ পরে ব্যানারসহ অবস্থান করেন। অবস্থান কর্মসূচী শেষে প্রতিটি দপ্তর নিজ নিজ কার্যালয়ে অথবা কয়েকটি ক্যাডার সম্মিলিতভাবে সাংবাদিকদের আমাদের দাবীর বিষয়ে ব্রিফ করেন।
জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে হাসপাতালের সামনে এই অবস্থান কর্মসূচী পালন ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। তবে হাসপাতালের জরুরী বিভাগসহ অন্যান্য জরুরী সেবা প্রদান কার্যক্রম এ কর্মবিরতির আওতার বাইরে ছিল।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্ট এ আদেশ প্রত্যাহার না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ফেসবুকে মত প্রকাশের মত তুচ্ছ কারণে ২৫ ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অথচ একই ধরনের কাজ প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যরা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বৈষম্যপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে প্রশাসন ক্যাডার ২৫ ক্যাডারের ন্যায্য দাবী আদায় ও জনপ্রশাসন সংস্কার কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করতে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে ‘আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ’ দাবী করেছে।

গতকাল শনিবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেছিলেন, “জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনে ২৫টি ক্যাডারের পক্ষ থেকে পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপসচিব পদে কোটা বাতিলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্ষমতাধর একটি গোষ্ঠীর একচ্ছত্র আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে প্রশাসনিক ফ্যাসিজম শক্তিশালী হবে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।”
তিনি বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ক্যাডার বহির্ভূত করার কৌশল হিসেবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা এসব সেক্টর থেকে মেধাবীদের দূরে সরিয়ে দেবে। এছাড়া, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারকে সংস্কার প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং পরিসংখ্যান ক্যাডারকে সার্ভিসের বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে এসব সেক্টর মেধাশূন্য হয়ে পড়বে।
সংগঠনের সমন্বয়ক মুহম্মদ মফিজুর রহমান আরও বলেন, গণিত দক্ষতা মেধা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হলেও, তা বাদ দিয়ে মুখস্থভিত্তিক পদ্ধতিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, যা সঠিকভাবে মেধার মূল্যায়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
এছাড়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে প্রশাসন ক্যাডারের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অযৌক্তিক প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাবও করা হয়েছে, যা জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের অন্তরায় বলে উল্লেখ করা হয়।

সভায় পরিষদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
- ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার নীতির বাস্তবায়ন
- উপসচিব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ
- শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারসহ সব ক্যাডারকে একই কমিশনের আওতায় রাখা
- পরিবার পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান ক্যাডারকে সার্ভিসে বহাল রাখা
- সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসে প্রবেশের পর প্রশাসন ক্যাডারের জন্য পুরোনো সার্ভিসে ফেরার সুবিধা বাতিল
- জেলা প্রশাসককে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব বাতিল
- ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’-এর পরিবর্তে ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা সার্ভিস’ নামকরণ
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়’ নামকরণ
সভায় অভিযোগ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে ২৫ ক্যাডারের ১৩ জন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, অথচ প্রশাসন ক্যাডারের সদস্যদের ক্ষেত্রে একই ধরনের কর্মকাণ্ডে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি বৈষম্যমূলক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
