নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত ২৪ থেকে ২৬শে ডিসেম্বর সরকারি সফরের অংশ হিসেবে কুড়িগ্রাম জেলার শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। সেই সফরে হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ ২১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা বকেয়া রয়েছে, যার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই জেলার ৯টি উপজেলার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ১৬১ জন মানুষের জন্য প্রথম দফায় ১৮শ কম্বল ও শীতবস্ত্র কেনার জন্য প্রতিটি উপজেলার জন্য ৩ লাখ করে মোট ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয় ধাপে আসিফ মাহমুদ কম্বল বিতরণ করতে যান। এই সফরে তিনি ৯টি উপজেলায় বিতরণের জন্য ১০ হাজার কম্বল ও ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ পান। ২৪ ও ২৫শে ডিসেম্বর, দুইদিন ৯টি উপজেলার মধ্যে ৬টি উপজেলায় তিনি কম্বল ও অর্থ বিতরণ করেন। এই দুই দিন বিভিন্ন উপজেলায় যাওয়া-আসার জন্য তিনি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেন। যদিও ৩য় দিন কম্বল বিতরণ না করেই তাকে ঢাকা ফিরতে হয়, কারণ ২৬ তারিখ সকালে সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া আন্তঃমন্ত্রণালয়ের একটি চিঠিতে দেখা যায়, আসিফ মাহমুদের ওই সফরে হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ মোট খরচ হয়েছে ২১ লাখ ২৬ হাজার ৭০০ টাকা। যার মধ্যে ১২ই জানুয়ারি উক্ত চিঠির মাধ্যমে ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৮৫ টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি টাকা এখনো বকেয়া রয়েছে হেলিকপ্টার সেবাদাতার প্রতিষ্ঠানের কাছে।
যে সফরে ২শ টাকা মূল্যের ১০ হাজার কম্বল বিতরণে ২০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং শীতবস্ত্রের জন্য ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, সেখানে একজন উপদেষ্টার হেলিকপ্টার ভাড়ার পেছনে অহেতুক ২২ লাখ টাকা খরচ করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে।
অনেকেই বলছেন, যারা সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের এমন অহেতুক বিলাসিতা কেন? বন্যায় ত্রাণ বিতরণের জন্য হলেও কথা ছিল। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে শীতার্তদের জন্য কম্বল দিতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের মত অপচয় করে দেশের মানুষকে কী বার্তা দিতে চাইলেন উপদেষ্টা? তাহলে কি এটাই সংস্কার?
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মন্ত্রণালয়ের খরচে বন্ধুদের সাথে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেছে সবচেয়ে দামী র্যাকেট ও ফেদার কেনেন। ২০ হাজার করে ৪টি র্যাকেট ৮০ হাজার টাকা এবং প্রতি বক্স ৮ হাজার টাকা মূল্যের ফেদার কেনা হয়। সেই সাথে তার লাখ টাকার জ্যাকেট ও কেডস নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যে ব্যক্তি জুলাই মাসে পুরানো জিন্স, টি-শার্ট ও ছেঁড়া স্যান্ডেল পরে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যার নাকি মোবাইল ফোন কেনার টাকা ছিল না, তার হাতে এখন এত টাকা কোথা থেকে এলো? তার চলাফেরা ও পোশাক-আশাকের এই পরিবর্তন কি একজন উপদেষ্টার বেতনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ? অনেকেই একে ‘গরিবের ঘোড়ারোগ’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন।
আসিফ মাহমুদ লাখ টাকার জ্যাকেট-কেডস পরে হেলিকপ্টারে চড়ে ত্রাণ বিতরণের সময় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জনসভায় অংশ নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে জনসংযোগ করেছেন। সেসব সভায় তিনি দেশের সংস্কার, আওয়ামী সরকারের অর্থ অপচয়, দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার, রাষ্ট্রের কল্যাণে ব্যয় সংকোচনসহ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল উদ্যোগ বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

