বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান: অধ্যাপক ইউনুসকে CPJ-এর ১০ সুপারিশ

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান: অধ্যাপক ইউনুসকে CPJ-এর ১০ সুপারিশ
শেয়ার করুন

ঢাকা, ৫ই ফেব্রুয়ারি  ২০২৫ – বাংলাদেশে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা রক্ষার লক্ষ্যে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) একটি চিঠি পাঠিয়েছে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসকে, যিনি দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে CPJ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন অধ্যাপক ইউনুস। সেখানে তিনি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন। সেই আলোচনার ভিত্তিতে CPJ বাংলাদেশে সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১০টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছে।

CPJ-এর ১০ দফা সুপারিশ

১. দমনমূলক আইনের কার্যকারিতা স্থগিত করা:
বাংলাদেশের দণ্ডবিধির ফৌজদারি মানহানির আইন এবং ঔপনিবেশিক যুগের “অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩”-এর কার্যকারিতা স্থগিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

২. সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো প্রত্যাহার:
CPJ বলেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ধারা ৫৭-তে করা মামলাসহ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল প্রতিহিংসামূলক মামলা বাতিল করতে হবে।

৩. আটক সাংবাদিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা:
CPJ চারজন প্রো-আওয়ামী লীগ সাংবাদিক—ফারজানা রূপা, শাকিল আহমেদ, মজাম্মেল বাবু ও শ্যামল দত্ত—এর জন্য সুবিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

৪. সাংবাদিকদের ওপর হামলার তদন্ত:
২০২৪ সালে সাংবাদিক হাসান মেহেদী ও আবু তাহের মো. তুরাব-এর হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক সকল হামলার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে CPJ।

৫. দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার অবসান:
২০১২ সালে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি-এর হত্যা মামলা এবং ২০২৩ সালে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নদীম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

৬. হেফাজতে নির্যাতনের তদন্ত:
সাংবাদিক শহিদুল আলম, কার্টুনিস্ট কবীর কিশোর এবং রঘুনাথ খা-এর ওপর নির্যাতনের ঘটনার পুনঃতদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।

৭. প্রবাসী সাংবাদিকদের পরিবারকে টার্গেট করা বন্ধ করা:
২০২৩ সালে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের ভাই মাহিনুর খান-এর ওপর হামলার ঘটনা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

৮. সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি বন্ধ করা:
চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টসসহ উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

৯. সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়ন:
CPJ সুপারিশ করেছে যে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষায় একটি “সাংবাদিক সুরক্ষা আইন” প্রণয়ন করা উচিত, যাতে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারেন।

১০. স্বাধীন প্রেস কাউন্সিল গঠন ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা:
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে স্বাধীন ও স্বশাসিত সংস্থায় পরিণত করা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

CPJ-এর প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ বলেছেন, ‘‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই সুযোগটি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সরকার যেন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা উচিত।’’

CPJ-এর এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এখন দেখার বিষয়, অধ্যাপক ইউনুসের নেতৃত্বাধীন সরকার এই সুপারিশগুলোর প্রতি কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Visited 777 times, 1 visit(s) today