❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্তির এক মাস দশদিনের মাথায় মারা গেলেন সাংবাদিক আজহার আলী সরকার। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগতে থাকা ৫৭ বছর বয়সী এই সাংবাদিক রোববার দুপুরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান।
আজহার আলীর স্ত্রী রোকসানা পারভীন জানান, রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তার স্বামী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রোববার দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়ার জন্য হাসপাতাল থেকে বের করা হয়। পথে তার মৃত্যু হয়।
দুই ছেলে সন্তানের বাবা আজহার আলীকে গত বছরের ১০ অক্টোবর রাজধানীর বনশ্রীর বাসা থেকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। পরদিন তাকে রমনা থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মামলাটি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের পর করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিন্টো রোড এলাকায় প্রাডো গাড়িতে ‘সন্দেহজনকভাবে’ ঘোরাঘুরির অভিযোগে এনায়েত করিমকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে রমনা মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই মামলায় এনায়েত করিমের সহযোগী এসএম গোলাম মোস্তফা আজাদ এবং জাতীয় পার্টির রওশনপন্থি অংশের মহাসচিব কাজী মামুনুর রশীদকেও গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে একই মামলায় আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
কারাগারে থাকা অবস্থায় আজহার আলীর অসুস্থতা ও চিকিৎসা নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ছিল। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও শুরুতে তা মঞ্জুর হয়নি।
এর মধ্যে ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও গত ১৮ জুন শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে ডিবি পুলিশের রমনা বিভাগের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ।
শাহবাগ থানার মামলাটি করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান নিয়ে একটি আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্না, অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জন ও আব্দুল্লাহীল কাইউমসহ ১৬ জনকে আটকের পর।
গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মঞ্চ ৭১’ নামের একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে তারা ‘মবের শিকার’ হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়।
ওই মামলায় আজহার আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির দিন গত ২৯ জুন তাকে হুইলচেয়ারে করে আদালতে হাজির করা হয়। তখনও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে জামিনের আবেদন করা হলেও তা মঞ্জুর হয়নি।
পরে অসুস্থতা বিবেচনায় গত ১৭ আগস্ট আদালত আজহার আলীকে জামিন দেন। কারাগার থেকে বের হওয়ার এক মাস দশদিন পর রোববার তার মৃত্যু হলো।
আজহার আলী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতায় যুক্ত ছিলেন। তিনি দৈনিক ‘আমাদের সময়’ ও ‘আজকের কাগজ’-এর মতো সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন।
রোববার আসরের নামাজের পর রাজধানীর বনশ্রীর আইডিয়াল মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
