স্থানীয় সংবাদদাতা
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শোয়াইব নগর কামিল মাদ্রাসার কম্পিউটার ল্যাবে প্রশিক্ষণার্থীদের নাচ-গানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়কের উস্কানিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ নুরুল হুদাকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগে বাধ্য করেন।
রোববার,২৬শে জানুয়ারি মাদ্রাসা চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা আইসিটি অফিস থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য কালীগঞ্জ শোয়াইব নগর কামিল মাদ্রাসার কম্পিউটার ল্যাবটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। গত ২৪শে জানুয়ারি ছুটির দিনে প্রশিক্ষণার্থীরা ক্লাস শেষে সেখানে পিকনিক করেন। পিকনিক শেষে তারা নাচ-গান করেন। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ হন মাদ্রাসাটির শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকালে মাদ্রাসা খুললে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা অধ্যক্ষকে অফিস কক্ষে আটকে রেখে স্লোগান দিতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে অধ্যক্ষ নুরুল হুদা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হুসাইন আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসার গেটে তালা দিয়ে আন্দোলন করেছেন। তারা অধ্যক্ষের পদত্যাগ নিশ্চিত করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকাণ্ড ইসলামের অনুভূতিতে আঘাত এনেছে। আমরা এ ঘটনা মানতে পারিনি। এর জন্য অধ্যক্ষ দায় এড়াতে পারেন না।
অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বলেন, ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল এবং আমি ছিলাম না। অনুমতি ছাড়াই পিয়ন থেকে চাবি নিয়ে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন। পিকনিকের পর তারা নাচ-গানের আয়োজন করেন। আমি নির্দোষ, কিন্তু আমাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেদারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষকের পদত্যাগ নিয়ম বহির্ভূতভাবে নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
