নিউজ ডেস্ক।
ডক্টর মুহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তবর্তীকালীন সরকার ছয় মাস অতিবাহিত করলেও জ্বালানি খাতে কোন পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন দেশের প্রথম সারির জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এ নিয়ে মন্তব্য করতেও অনিচ্ছুক অনেকেই। বিদেশী স্বার্থ রক্ষা ও কমিশন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখায় উদ্দেশ্য বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণ।
শনিবার বাংলাদেশ সরকারের সাথে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্জেন্ট এলএনজির” সাথে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে সেটিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রথম কোন দেশের অর্থনীতির চুক্তি বলে দাবী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পোস্ট দেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কতৃপক্ষ (বিডা) এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। এ নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি থাকলেও পরবর্তীতে দাবীতে যে ভিত্তিহীন তা প্রমানিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসে সেই মার্কিন কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ক্রেতা হিসেবেও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের কিংবা জ্বালানি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউই উপস্থিত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায় ২০৩০ সালের আগে ‘আর্জেন্ট এলএনজি’ কোম্পানিটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বিস্তারিতঃ বাংলাদেশের সাথে আর্জেন্ট এলএনজির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি: সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা
অতীতে যে সমস্ত সংগঠন এই ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে চাপে রাখলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নীরবতা পালন করছে যা জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এই বিষয়ে জাতীয় তেল গ্যাস রক্ষা কমিটিও এখনো পর্যন্ত কোন বিবৃতি দেয়নি।
“কোন পরিবর্তন নেই, বিদেশী স্বার্থ রক্ষার ধারাবাহিকতায় ধরে রেখেছে বর্তমান সরকার” এমন অকপট স্বীকারোক্তিই দিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দেশের শীর্ষ স্থানীয় এক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ। আরেক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এই ঘটনাকে জনগণের সাথে প্রতারণার বলেই অভিহিত করেছেন।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর দেশে বিদেশে বিনিয়োগ কমেছে ৭১ শতাংশ সে ব্যর্থতা আড়াল করতে গিয়ে এমন মিথ্যে দাবী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য শেখ হাসিনার সরকারে মেয়াদে ২০২৩ সালের জুনে কম দামে কাতার থেকে এলএনজি আমদানীর চুক্তি হয়েছিলো, সেই চুক্তির আওতায় ২০২৬ থেকে দেশটির গ্যাস সরবরাহরা করার কথা রয়েছে।
যদিও বর্তমান ধারন ক্ষমতার বিচারে ২০২৮ সালের আগে এলএনজি ব্যবহারের আসলে কোন ধরনের সুযোগই নাই বাংলাদেশে। সামিট এবং এক্সিলারেটের সাথে ৩য় ও ৪র্থ টার্মিনাল স্থাপনের চুক্তি বাতিল হওয়ার পর এখন নতুন টার্মিনাল আগামী ৩/৪ বছরে স্থাপন হবে কিনা কেউ জানে না। নতুন টেন্ডার হওয়ার পর টার্মিনাল তৈরী হতে ২/৩ বছর সময় লাগবে।

বর্তমানে দেশে সামিট ও এক্সিলারেটের মাধ্যমে যে গ্যাস সরবরাহ করা হয় সেটার যোগান আসে মূলত কাতার ও ওমান থেকে জিটু জি চুক্তির মাধ্যমে। ইতোমধ্যে ১.৮-২.৫ এমটিপিএ এলএনজি সরবররাহে কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ১৫ বছর মেয়াদি এলএনজি এসপিএ চুক্তি রয়েছে যা ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭এ স্বাক্ষরিত হয়। কাতার থেকে বছরে ১ দশমিক ৮ মিলিয়ন মেট্রিকটন (এমএমটি) করে ১৫ বছর পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য আরো একটি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সই হয়েছে ২০২৩ সালে। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ প্রতিবছর অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ এমএমটি এলএনজি পাবে, যা ২০২৬ সালে শুরু হবে। অনুরুপ ১.২ মিলিয়ন টন সরবরাহের জন্য ১০ বছরের চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে ২০২৩ সালে ওমানের সাথে। যেটা ২০২৬ সালে কার্যকর হবে।
বর্তমানে কাতার ও ওমান থেকে বছরের ৫৭ কার্গো এলএনজি দেশে আসছে। এছাড়া নিয়মিত স্পট মার্কেট থেকে ১০-১৫ কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে। সামিট এবং এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালের বছরে সর্বোচ্চ সক্ষমতা ৪ মিলিয়ন টন। যদিও সারাবছরে এই পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হয়না নানা কারনে। টার্মিনালের নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষন, সাগরের দুর্যোগসহ নানা কারনে ৩৬৫ দিন ব্যবহার হয় না এই দুই এলএনজি টার্মিনাল।
