ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্তি

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্তি
শেয়ার করুন

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্ত

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘর্ষের অবসান ঘটাতে ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে। বুধবার পৃথক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী এ চুক্তির ঘোষণা দেন।

চুক্তি ঘোষণা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে, মিশর এবং কাতারের সহযোগিতায় বহু মাসের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পর, ইসরায়েল ও হামাস একটি যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “এই চুক্তি গাজায় যুদ্ধের অবসান ঘটাবে, ফিলিস্তিনি বেসামরিক জনগণের জন্য অতিপ্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেবে এবং বন্দিদের পরিবারগুলোর সাথে পুনর্মিলন ঘটাবে।”

চুক্তির কার্যকারিতা ও প্রতিক্রিয়া

চুক্তিটি রবিবার থেকে কার্যকর হবে বলে হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে। চুক্তির খবর প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালা এলাকায় উল্লাসে মেতে ওঠে সাধারণ মানুষ। গাজার খান ইউনিস শহরের এক তরুণী বলেন, “গত ১৫ মাসে আমি অশ্রু, হাসি, শহীদদের হারানো এবং কারাগারে মানুষ দেখেছি, কিন্তু অবশেষে আমি আনন্দ অনুভব করছি।”

চুক্তির মূল বিষয়বস্তু

চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এটি তিনটি পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১. প্রথম পর্যায়ে হামাস নারী ও শিশু বন্দিদের মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েল ৫০ বছরের বেশি বয়সী বন্দিদের মুক্তি দেবে। প্রতিটি বন্দি বিনিময়ের জন্য ইসরায়েল ৩০ জন ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে।
২. দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসরায়েলি সেনারা গাজা থেকে পুরোপুরি সরে যাবে এবং সমস্ত পুরুষ বন্দি মুক্তি পাবে।
৩. তৃতীয় পর্যায়ে মৃত বন্দিদের দেহাবশেষ বিনিময় এবং গাজার অবকাঠামো পুনর্গঠন শুরু হবে।

চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো গাজায় পুনরায় কাজ শুরু করতে পারবে এবং পানি, বিদ্যুৎ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু হবে।

সংঘাতের পটভূমি ও হতাহতের পরিসংখ্যান

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক আক্রমণে ১,২০০ জন ইসরায়েলি নিহত হয়। প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল গাজায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায়, যেখানে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে ৪৬,০০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সংঘাতের কারণে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যাই বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

চুক্তির মধ্যস্থতায় কাতার, মিশর এবং যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে টেলিফোনে আলোচনা করেন। বাইডেন বলেন, “এই চুক্তি আমার প্রশাসনেই চূড়ান্ত হয়েছে, তবে পরবর্তী প্রশাসন এর বাস্তবায়নে কাজ করবে।”

ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমার প্রশাসনের উদ্যোগেই এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্ভব হয়েছে।” তিনি গাজাকে সন্ত্রাসের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হতে প্রতিরোধ করার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এই চুক্তি কেবল যুদ্ধের অবসান ঘটাবে না, বরং বন্দিমুক্তি এবং গাজা পুনর্গঠনের মাধ্যমে মানবিক বিপর্যয় থেকে উত্তরণের পথ তৈরি করবে। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Visited 38 times, 1 visit(s) today