প্রতিবেদক:
অবরুদ্ধ গণতন্ত্র মুক্তি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় আত্মত্যাগকে স্মরণ করে আগামী ১০ই নভেম্বর সর্বাত্মকভাবে শহিদ নূর হোসেন দিবস পালনের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
আজ ৮ই নভেম্বর, শুক্রবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কমর্সূচি ঘোষিত হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি ‘অগণতান্ত্রিক অপশক্তির’ বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, শহিদ নূর হোসেন দিবস এমন সময়ে সমাগত যখন বাকস্বাধীনতা নেই। অগণতান্ত্রিক, অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায়। আওয়ামী লীগসহ গণতান্ত্রিক চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল মানুষ অত্যাচারিত। জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা নেই। তাই ভেদাভেদ ভুলে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। এই লড়াইয়ে শহিদ নূর হোসেনের আত্মত্যাগ প্রেরণা জোগাবে।
দিবসটি আয়োজন উপলক্ষ্যে ১০ই নভেম্বর বিকাল ৩টায় শহিদ নূর হোসেন চত্বরের জিরো পয়েন্ট থেকে অগণতান্ত্রিক শক্তির অপসারণ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী সকলকে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসাথে দেশব্যাপী সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগে দিনভর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নামে একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগ ছড়িয়ে পড়ে। যাতে শোনা যায়, নেতকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে যেন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি নিয়ে মিছিল করেন। এ নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই ফোনালাপটি ভুয়া এবং এর কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। কেউ যেন বিভ্রান্ত না হন, এ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে ইতিমধ্যে।
১০ই নভেম্বর ‘শহিদ নূর হোসেন দিবস’। ১৯৮৭ সালের এদিন স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মিছিলে শহিদ হন নূর হোসেন। বুকে-পিঠে ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে নূর হোসেনের আত্মত্যাগ তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রেরণাদায়ী ঘটনা। তার এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন বেগবান হয় এবং অব্যাহত লড়াই-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ই ডিসেম্বর এরশাদের পতন ঘটে।
শহিদ নুর হোসেন তাদের প্রতীক, দলের কাছে যাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, কিন্তু দলের জন্য, বঙ্গবন্ধু ও দলনেত্রীর জন্য জীবন দিতে এক মুহুর্তও ভাবে না। যারা মানববর্ম হয়ে নেতাদের রক্ষা করেন, বিনিময়ে চান না কিছুই। সেসব নিবেদিতপ্রাণ দল অন্তঃপ্রাণ কর্মীদের পথিকৃৎ শহিদ নূর হোসেন।
