প্রতিবেদক:
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও লন্ডন থেকে গ্রিন সিগন্যাল না পাওয়ায় দেশ ছাড়তে পারছেন না তিনি। এমনটাই জানা গেছে পারিবারিক সূত্রে। সূত্রের দাবি, লন্ডনে যাওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাকে বিদেশযাত্রায় নিষেধ করা হয়েছে লন্ডন থেকে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, শুক্রবার খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তার বিদেশযাত্রা বিলম্বিত হয়েছে বলে ধারণা করছেন দলীয় নেতারা।
দলের একজন সিনিয়র নেতা বলেন, খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) এবং ভিসা প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিএনপির শীর্ষ দুই নেতার দেশের বাইরে থাকার সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বিদেশে যাওয়া বিলম্বিত হচ্ছে। লন্ডন থেকে ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তারা।
যদিও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন, তারেক রহমান যেহেতু এখনই দেশে ফিরতে পারছেন না, তাই খালেদা জিয়াকে দেশত্যাগ করতে দিচ্ছে না বিএনপির হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে ‘মাইনাস ফর্মূলা’ বাস্তবায়নের শঙ্কা দেখছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এ মুহূর্তে দেশে নেই, দলীয় নেতাকর্মীরাও রাজনীতিতে সক্রিয় নন। এ মুহূর্তে খালেদা জিয়া যদি দেশ ছাড়েন, সেইসাথে তারেক রহমানও অনুপস্থিত থাকেন, তবে রাজনীতিতে বড় ধরণের মেরুকরণ ঘটতে পারে, যা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য সুখকর হবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরা। তাই খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে রাজি নয় বিএনপি।
এদিকে, খালেদা জিয়ার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য তার যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ডা. মামুন জানান, “লন্ডন এবং যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত চিকিৎসার পরিকল্পনা আছে। বিশ্বের সেরা চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাও নেওয়া হচ্ছে।”
মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা আরও জানান, খালেদা জিয়া বর্তমানে ভ্রমণের জন্য শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা সঙ্গী হিসেবে ১৬ জনের একটি দলও তার সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ফুসফুসজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।
২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজার পর তিনি কারাগারে যান এবং পরবর্তীতে নির্বাহী আদেশে মুক্তি পান। মুক্তির পর থেকে তিনি গুলশানের ফিরোজায় অবস্থান করছেন এবং সেখানে তার নিয়মিত চিকিৎসা চলছে।
খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রা নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হলেও তার চিকিৎসা চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে মেডিকেল বোর্ড।
