স্থানীয় সংবাদদাতা:
কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত বিনামূল্যের সরকারি প্রণোদনার সার থাকার কথা ছিল সরকারি গুদামে। তবে এই সার উদ্ধার হয়েছে ধোবাউড়ার বিএনপি নেতা মাজহারুল আহসানের ব্যক্তিগত গুদাম থেকে। বুধবার বিকেলে এ খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত শারমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে গুদামটি সিলগালা করেন।
গুদামের মালিক মাজহারুল আহসান ধোবাউড়া বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। মেসার্স আর এম ট্রেডার্স নামে তার একটি সারের দোকান রয়েছে। এছাড়া তিনি বিএডিসির ডিলার হিসেবেও তালিকাভুক্ত।
ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত শারমিন জানান, সরকারি সার ওই ব্যক্তিগত গুদামে কেন রাখা হয়েছিল তার কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি ডিলার মাজহারুল আহসান। এমন পরিস্থিতিতে তদন্তের অংশ হিসেবে গুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধোবাউড়ায় কৃষকদের মাঝে বিতরণের জন্য বিএডিসি থেকে প্রণোদনার দুই ট্রাক সার উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এই দুই ট্রাকে মোট ৬৩০ বস্তা সার (প্রধানত এমওপি ও ডিএপি) ছিল, যা ৩রা নভেম্বর সরকারি গুদামে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু বরাদ্দকৃত সারের মধ্যে ৩১৫ বস্তার একটি ট্রাক গন্তব্যে না গিয়ে বিএনপি নেতা মাজহারুল আহসানের গুদামে চলে যায়।
বিএনপির এই নেতার দাবি, কৃষকদের মধ্যে চাহিদা থাকলেও তার গুদামে এমওপি সারের সংকট ছিল। এ কথা জানতে পেরে কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার নিজেই এক ট্রাক সার তার গুদামে পাঠিয়ে দেন। মাজহার তখন কক্সবাজারে ছিলেন। তার গুদামে সার রাখার পেছনে উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের সুবিধার্থে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। নিজের বরাদ্দের পর কৃষি কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সার দিতে চেয়েছিলেন তিনি, যা পরে কৃষকদের মধ্যে সঠিকভাবে বিতরণ করা হতো।
মাজহারুল আরও বলেন, আমি কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের কাছ থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা পাওনা আছি, যা দীর্ঘদিন ধরে জমে আছে। সরকারি অফিসে সারের সঠিক ব্যবস্থাপনায় সমস্যা থাকায় এবং কৃষকদের সহজে সার পেতে যাতে অসুবিধা না হয়, সে জন্যই আমার গুদামকে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এদিকে গুদামকাণ্ডে কৃষি কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে ফোন কেটে দেন। পরে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এ ঘটনা কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ময়মনসিংহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাছরিন আক্তার বানু এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা খোঁজখবর শুরু করেছি। যার গুদামে সার রাখা হয়েছে সেটি বিএডিসির ডিলারের গুদাম। মূলত প্রথম ট্রাকে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সারের সরবরাহে কিছু ত্রুটি ঘটেছে। অনেক সময় সরকারি গুদামে স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাইরের গুদামে সাময়িকভাবে সার রাখা হয়।
কৃষি কর্মকর্তার এমন দায়সারা বক্তব্য সত্ত্বেও স্থানীয়দের চাপের মুখে উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে দেখছে বলে জানিয়েছে।
