প্রতিবেদক:
একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের কন্যা অভিনেত্রী শমী কায়সারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৬ই নভেম্বর) রাতে রাজধানীর উত্তরার ৪নং সেক্টরের ৬নং রোডের ৫৩ নং বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাফিজুর রহমান।
শমী কায়সারের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা হয়েছে গত ৯ই অক্টোবর। সেই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সৈয়দ হাসান মাহমুদ নামে বিএনপির এক কর্মীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ঢাকার সিএমএম আদালতে ভুক্তভোগী নিজেই এই মামলা করেছিলেন। মামলায় শমী কায়সার ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, কণ্ঠশিল্পী মমতাজসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
এছাড়া গত ১৪ই অক্টোবর মাগুরা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন সময় কটূক্তির অভিযোগে শমী কায়সারের নামে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা হয়।
গত ১৩ই অক্টোবর মাগুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন মোহাম্মদ রেজওয়ান কবির নামে এক বিএনপি কর্মী।
প্রসঙ্গত, গত ৫ই আগস্ট রাষ্ট্র ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সেই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রেপ্তার হলেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
অভিনয় থেকে বিরতি নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির পাশাপাশি শমী দীর্ঘদিন ই-ক্যাবের সভাপতি ছিলেন। গত ১৪ই আগস্ট দেশের ই-কর্মাস প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
শমী কায়সার আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া ২০২৪-র নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি।
শমী ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের সন্তান শমী নব্বই দশকের নামকরা অভিনেত্রী ছিলেন। তার মা পান্না কায়সার একজন লেখিকা এবং সাবেক সংসদ সদস্য।
সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দুজা চৌধুরীর স্ত্রী মায়া পান্না কায়সারের বোন। শমী কায়সার এবং রাজনীতিবিদ মাহি বি. চৌধুরী খালাতো ভাই-বোন।
