স্থানীয় সংবাদদাতা:
কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) সদস্যদের হাতে আটক হয়েছেন ২০ জন বাংলাদেশি জেলে।
মঙ্গলবার ৫ই নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনার কাছে টেকনাফের নাইক্ষ্যংদিয়া বৈদ্যপাড়া সংলগ্ন এলাকা থেকে ১৫টি নৌকাসহ এসব জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাবরাং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য আবদুস সালাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আবদুস সালাম জানান, বড় একটি ট্রলার নিয়ে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রের মুখে এসব জেলেকে নিয়ে যান। জেলেদের সবার বাড়ি টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়া ও ক্যাম্পপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনও সবার নাম-ঠিকানা নিশ্চিত করতে পারেননি।
এর আগেও বাংলাদেশি জেলেদের তুলে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী। নিজ দেশের জলসীমা থেকে বারবার এভাবে দেশি জেলেদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়রা বিজিবি ও কোস্টগার্ডের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন।
শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল গণি এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, এর আগেও ৮ই অক্টোবর নাফ নদ থেকে ৫ বাংলাদেশি জেলেকে নৌকাসহ ধরে নিয়ে গিয়েছিল আরাকান আর্মি। পরে বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) তৎপরতায় তাদের ফেরত দেয়া হয়।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আদনান চৌধুরী জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছেন।
টেকনাফ-২ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, তিনি স্থানীয় জেলে ও তাদের পরিবারের কাছ থেকে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
সীমান্তে দিনভর বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্কে সীমান্তবাসী
মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধ আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে, যার প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে।
টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, সোমবার রাত থেকে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির ও মর্টার শেলের বিকট শব্দ বেড়েছে। দিনে কিছুটা কম হলেও রাতে বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে, যার ফলে শিশুদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা জানি না কবে এই ভীতি থেকে মুক্তি পাব।
এদিকে সীমান্তে উত্তেজনা ও জেলেদের আটকের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে।
