বিনিয়োগ করবে না জাইকা, স্থগিত বাস-ট্রেনের র‌্যাপিড পাস প্রকল্প

বিনিয়োগ করবে না জাইকা, স্থগিত বাস-ট্রেনের র‌্যাপিড পাস প্রকল্প
শেয়ার করুন

প্রতিবেদক:

ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে র‌্যাপিড পাস কার্ডের মাধ্যমে যাতায়াত সহজীকরণের প্রতিশ্রুতি এখনো পূরণ হয়নি। মেট্রোরেলের সাথে পরিচিত এ সুবিধাটি এখনো বাস, ট্রেন ও নৌযানে কার্যকর হয়নি। এই সমন্বিত ভাড়া আদায় ব্যবস্থার কারিগরি সহায়তা প্রদানকারী জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) আর বিনিয়োগে আগ্রহী নয়। সাত বছর পার হলেও প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ব্যর্থ হওয়ায়, মেয়াদ শেষ করে জাইকা অর্থায়ন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

তবে দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে জাইকার এই অনাগ্রহ। তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘কনফিডেন্স’ পাচ্ছেন না বলে দাবি সূত্রের।

২০১৭ সালে পরীক্ষামূলক এবং ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার ঘোষণা দিয়ে, র‌্যাপিড পাস কার্ডের মাধ্যমে ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তা এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি, এবং শুধুমাত্র মেট্রোরেলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ বাস ও অন্যান্য পরিবহনে এই সুবিধা চালু হলে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সাথে ঝগড়া বা জটিলতা অনেকাংশে দূর হতে পারতো।

ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নেয়া ক্লিয়ারিং হাউজ ফেইজ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে এই র‌্যাপিড পাস ব্যবস্থাটি জাইকার কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু গত জুন মাসে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বাস, ট্রেন কিংবা নৌযানে এই সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে নগরবাসীর জন্য বহু প্রতীক্ষিত এই সেবা বাস্তবে অপূর্ণই রয়ে গেছে।

জানা গেছে, বিআরটিসহ বিভিন্ন প্রকল্পে র‌্যাপিড পাস ব্যবহারের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের দপ্তরগুলোর সাথে জাইকার বৈঠক ফলপ্রসূ ছিল। ২০২৪ সালেই এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সামগ্রিক পরিকল্পনা হোঁচট খায়। বর্তমানে দায়িত্বশীলদের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতায় হতাশ জাইকা।

যদিও এ ব্যাপারে জাইকার কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, যারা বহুদিন ধরেই ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি দাবি করে আসছে, তাদের দিক থেকেও এই সুবিধা বাস্তবায়নের ইচ্ছা রয়েছে।

সমিতির ট্রেজারার এহসান আহমেদ খোকন বলেন, “র‌্যাপিড পাস চালু হলে আমাদের জন্যও সুবিধা হবে। শুধু চালক গাড়ি চালাবে, অতিরিক্ত কর্মী রাখার দরকার হবে না। ভাড়া নিয়ে কোনো ঝামেলা হবে না। আমরা নিজেরাও চাই পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হোক।”

প্রকল্প পরিচালক মো. মামুনুর রহমান বলেন, “অনেক চেষ্টার পরও র‌্যাপিড পাস সবার জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত জাইকার কাছে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কারিগরি সহায়তা চাইলেও তারা তাতে রাজি হয়নি।”

ফলে বাধ্য হয়ে নিজেদের অর্থায়নে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব প্রকল্পে কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্পের মেয়াদ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতা প্রথম থেকেই সঠিকভাবে বিবেচনায় না নেওয়ায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।

তারা বলছেন, এই ধরনের প্রকল্পে সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও নির্ভরযোগ্যতার ঘাটতি ছিল। জাইকার মতো উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সরে যাওয়ায় প্রমাণ হয় যে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিদেশি বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

জাইকার সরে যাওয়ায় বাংলাদেশের পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বাস্তবায়ন এখন আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

Visited 13 times, 1 visit(s) today