আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তালা-চাবির চাহিদা আকাশচুম্বি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে তালা-চাবির চাহিদা আকাশচুম্বি
শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন:

৫ই আগস্টের পর থেকে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় দিনে-দুপুরে প্রকাশ্যে চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতি হচ্ছে, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র ডাকাতি, চাঁদাবাজি বেড়ে চলেছে উদ্বেগজনকভাবে।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সময়ে বেড়ে চলা চুরি-ডাকাতির ঘটনায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর অভিজাত অঞ্চল থেকে শুরু করে সাধারণ এলাকাগুলোতেও বেড়েছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি। আতঙ্কে নগরবাসী অতিরিক্ত সচেতন হয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুরু করেছেন, যার ফলে ব্যাপক হারে বেড়েছে তালা-চাবির বিক্রি।

সম্প্রতি গেন্ডারিয়ার বাসিন্দা রোজিনা সামাদ নিজ বাসায় তালা দিয়ে বাইরে যান এবং ফিরে এসে দেখেন ঘরের তালা ভেঙে ডাকাতি করা হয়েছে। মূল্যবান স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ খোয়া গেছে। তিনি জানান, নিরাপত্তার ঘাটতি থাকা তালাই তার বাসায় ডাকাতির প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

শনির আখড়ার আজহার মিয়া একই কারণে নতুন তালা কিনতে যাত্রাবাড়ী বাজারে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে। তাই বাসার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভালো মানের তালা নিতে এসেছি।

এই ধরনের আতঙ্ক নগরীর প্রতিটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে, যার ফলে তালা-চাবির দোকানগুলোতে ক্রেতার চাপ বেড়ে গেছে।

কারওয়ান বাজারের তালা-চাবির দোকানদার ইসমাইল শিকদার জানান, সম্প্রতি তালার চাহিদা চার-পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। আগে দিনে ১০টা তালা বিক্রি হত, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০টা।

ক্রেতারা ভালো মানের তালার খোঁজে এসে চুরির ঘটনা এড়াতে নিশ্চিত নিরাপত্তা খুঁজছেন।

একই কথা জানান তালা ব্যবসায়ী আলী আকবর। তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনা ব্যাপকহারে বেড়েছে। তাই মানুষ আরো ভালো ও শক্তিশালী তালা কিনতে আসছেন। কেউ কেউ বাড়ির দরজাও পরিবর্তন করছেন। আর দরজার জন্য উন্নতমানের দামি ‘লক’ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তালা বিক্রেতাদের মতে, বাজারে ৫০০ টাকার চেয়ে বেশি দামের তালাগুলো তুলনামূলক ভালো মানের। বিশেষ করে ভারতীয় আলীগড়ের তালাগুলো বেশ জনপ্রিয় হলেও বর্তমানে এর সংকট দেখা যাচ্ছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের তালা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জামের চাহিদা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানান তারা।

মানবাধিকার কর্মী চৌধুরী ফরহাদ হাবিব বলেন, নগরবাসীর সুরক্ষাই সবার আগে নিশ্চিত করার কথা দায়িত্ব নেওয়া নতুন সরকারের। শহরকে নিরাপদ রাখা না গেলে কখনই এটিকে সুস্থ নগর বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করাই একমাত্র সমাধান।

চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে নগরবাসী নিরাপত্তা সরঞ্জামে নজর দিলেও, প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Visited 11 times, 1 visit(s) today