নির্বাচিত ১৩৫ সংসদ সদস্যসহ হাজারো জনপ্রতিনিধি কারাবন্দী: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিচারহীনতার নজিরবিহীন কালো অধ্যায়

নির্বাচিত ১৩৫ সংসদ সদস্যসহ হাজারো জনপ্রতিনিধি কারাবন্দী: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিচারহীনতার নজিরবিহীন কালো অধ্যায়
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক


২০২৪ সালের ৯ই আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২রা অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালে গণহারে গ্রেপ্তার, একের পর এক ভুয়া ও সাজানো মামলা এবং অমানবিক চিকিৎসার কারণে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও জাতীয় সংসদ সদস্যদের জীবনে।

সংগৃহীত নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সর্বমোট ১৩৪ জন সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে। সবশেষ ২০২৫ সালের ২৩শে জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর রাতে সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে আটকের পর এ পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ জনে।

এর বাইরে মেয়র, কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ কারাবন্দী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা কয়েক হাজার।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চিত্র কেবল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং বন্দিদশায় বিনা চিকিৎসায় একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

পড়ুন: কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক বিষয় হলো—কারাগারে থাকা অবস্থায় মৌলিক মানবাধিকার ও যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এসব প্রবীণ ও অসুস্থ রাজনীতিবিদদের। কারাবন্দী থাকা অবস্থায় সুচিকিৎসার অভাবে ও শারীরিক জটিলতায় কারাগারের ভেতরেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন ২ জন সংসদ সদস্য।

কারাগারে চিকিৎসার সুযোগ না দেওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আরও বেশ কয়েকজন এমপি। পরবর্তীতে অস্থায়ী জামিনে মুক্তি পেলেও কারাগারে থাকার কারণে শরীরের ভেতরে বাসা বাঁধা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন আরও ২ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

গ্রেপ্তারকৃত ১৩৫ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৭ জন নারী সংসদ সদস্য রয়েছেন। এছাড়া বিরোধী ও স্বতন্ত্র মতাবলম্বী বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকেও একইভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং আইনি লড়াই শেষে বর্তমানে মাত্র ১৩ জন সংসদ সদস্য অস্থায়ী জামিনে মুক্ত আছেন। বাকিরা এখনও কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট বিচার কিংবা প্রমাণ ছাড়াই বন্দিদশায় দিন কাটাচ্ছেন।

পড়ুন: ‘হৃদরোগে’ ২ বছরে কারাবন্দির মৃত্যু ৩৪২, পুলিশ হেফাজতে ৩০: গোপন করা হলো রাজনৈতিক পরিচয়

এই অভূতপূর্ব রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, বেআইনি গ্রেপ্তার ও বন্দিদশায় মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে তারা স্পষ্ট দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং কারারুদ্ধ সকল সাবেক সংসদ সদস্যসহ সকল রাজবন্দীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

অসাংবিধানিক উপায়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন ও কারাগারের ভেতরে চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার চূড়ান্ত স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আন্দোলন ত্বরান্বিত করতে এই বিচারহীনতার বিচার নিশ্চিত করার শপথ নিচ্ছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।


বেঙ্গল জার্নাল
Visited 11 times, 11 visit(s) today