❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে চাল, সবজি, ডিম ও মাছ কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে খুচরা বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা এবং মাঝারি মানের চালের দাম ১–৩ টাকা বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ধানের দাম ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়। ডিমের ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নিউমার্কেট ও লালবাগের বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে এখন ব্র্যান্ডভেদে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭৬ টাকায়। ডায়মন্ড, মঞ্জুর ও সাগর ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম ৭৪ থেকে ৭৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে এসব চালের দাম ছিল প্রায় ৭২ টাকা।
রশিদ ব্র্যান্ডের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে। এক থেকে দেড় সপ্তাহ আগে এই চালের দাম ছিল ৬৩ টাকা। অন্যদিকে তুলনামূলক বেশি দামের মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেটের দাম কেজিতে ১ টাকা বেড়ে হয়েছে ৭৬ টাকা।
সরু চালের আরেক ধরন নাজিরশাইলের দামও বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯৫ টাকায়।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, গত এক থেকে দেড় সপ্তাহে এই চালের দাম কেজিতে ২–৩ টাকা বেড়েছে। সরু চালের পাশাপাশি মাঝারি মানের চালের দামও বেড়েছে।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বাজারে পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব চালের দাম কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের একটি পাইকারি দোকানের মালিক আবুল বাশার বলেন, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিল পর্যায়ে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে ট্রাকভাড়াও বেড়েছে। এসব কারণে ঢাকার বাজারে চালের দাম বেড়েছে।
আরও কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মাসে ডিজেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে চাল আনতে প্রতি ট্রাকে ভাড়া প্রায় ৩ হাজার টাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে ২ হাজার টাকা বেড়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচও বেড়েছে।
ফলে চালের দাম কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মিজানুর রহমান বলেন, আটাশ চাল সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬০ টাকায় কিনেছি। মাসের শেষের দিকে কিনেছি ৬২ টাকায়। আজ কিনলাম ৬৪ টাকায়। দোকানিরা বলছ ট্রাকভাড়া বেড়েছে, ধানের দাম ও মোকামে চালের দাম বেড়েছে; তাই এখন খুচরায় বেড়েছে।
তবে মোটা চালের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। বর্তমানে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়।
চড়া সবজির বাজার
চালের পাশাপাশি সবজির বাজারেও স্বস্তি নেই। রাজধানীর বাজারে বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজিতে ৭০ থেকে ১২০ টাকায়। আগাম শীতকালীন সবজি শিমের দাম কেজিতে ১৫০ টাকা। প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। মূলার দাম কেজিতে ৭০ টাকা। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, প্রতি কেজি ৩০ টাকা।
বাজারে লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। বরবটি, ঝিঙা ও করলার দাম কেজিতে ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। কচুরমুখি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে।
শসার দাম তুলনামূলক কম। সাধারণ শসা প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসার দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা।
সবজির চড়া দামের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকা। এখন মানভেদে তা ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
কারওয়ান বাজারে সবজি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী ফেরদৌস আরা বলেন, ১৪০ টাকা দিয়ে ফুলকপি দুই পিস কিনেছি। নতুন সবজি, তাই দাম বেশি হলেও কিনলাম। একটা লাউ ৫০ টাকা আর এক পোয়া কাঁচা মরিচ কিনেছি ৪০ টাকায়। কয়েকটা সবজি কিনতেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। বাজারে এসে কোনটা কিনব, আর কোনটা বাদ দেব, সেই হিসাব করতে হয়।
মুরগির দাম স্থিতিশীল, ডিমের ডজন ১৬০ টাকা
রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩১০ টাকা।
ব্রয়লার মুরগির বিক্রেতা শাহ আলম বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। সোনালি মুরগির দাম সাধারণত ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে থাকে।
শুক্রবার তিনি ৩১০ টাকা কেজি দরে সোনালি মুরগি বিক্রি করছেন।
তবে ডিমের দামে স্বস্তি নেই। বিভিন্ন বাজারে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে চারটি ডিম কিনতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৫ টাকা। সে হিসাবে এক ডজন ডিমের দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা।
গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মাছের দামও চড়া
মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। প্রতি কেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। পাঙাশের দাম ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা। আকার ও মানভেদে চিংড়ির দাম কেজিতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া প্রতি কেজি পাবদা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। বড় রুইয়ের দাম ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। চাষের কই পাওয়া যাচ্ছে ৩০০ টাকায়, পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে।
আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি দরে।
কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. আলফাজ বলেন, সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবার মাছের চাহিদা বেশি থাকে। এ কারণে কিছু মাছের দামও বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, এখন ২০০ টাকার নিচে খুব কম মাছ পাওয়া যায়। আগে পাঙাশের দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এখন সেটিও কেজিতে ২০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহের ওপর নির্ভর করে একই দিনেও মাছের দাম পরিবর্তিত হতে পারে।




