নিজস্ব প্রতিবেদক
- ১৭ বছর ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ থেকে ব্যবসা
- সরকার পতনের পর কোণঠাসা।
- এবার নতুন রাজনৈতিক আশ্রয়ে ফেরার চেষ্টা
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে ক্ষমতাকেন্দ্রের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, ইভেন্ট ও মিডিয়া ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল এশিয়াটিকের বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সেই প্রভাব হারিয়ে একপর্যায়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। মালিকপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া এবং তাদের দেশ ছাড়ার পর বন্ধ হয়ে যায় ব্যবসার অনেক পথ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনাও ঘটে।
তবে রাজনৈতিক পালাবদলের দুই বছর না পেরোতেই ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক বিদেশি নেতার মাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক যোগাযোগ তৈরি করে ব্যবসায় ফিরতে চাইছে এশিয়াটিক।
এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশে অবস্থানরত প্রতিষ্ঠানের এক পরিচালক ইউসিবি, সিটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। পুরোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্গঠন করে নতুন করে বিজ্ঞাপন ও ইভেন্টের কাজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও সূত্রের দাবি।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এশিয়াটিকের ব্যবসায়িক কৌশলের বড় বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে বাজারে প্রভাব বিস্তার করা। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সেই প্রভাব কাজে লাগিয়ে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বড় অঙ্কের বিজ্ঞাপন, করপোরেট ইভেন্ট ও মিডিয়া ব্যবসা পাওয়ার অভিযোগ ছিল প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। এখন রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে একই কৌশলে নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রে জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এশিয়াটিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আসাদুজ্জামান নূর একসময় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইউসিবি ব্যাংকের আক্তারুজ্জামান ও জাবেদ পরিবারের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। এই সম্পর্কের সূত্র ধরে ক্রিকেট ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বিজ্ঞাপন এবং স্পনসরশিপের নামে কোটি কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, নারী ফুটবল লিগের স্পনসরশিপ এবং ক্রিকেটের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের নামে নেওয়া অর্থের একটি বড় অংশও নানা মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ইউসিবির তৎকালীন পরিচালক আনিসুজ্জামান রনির বিদেশি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এশিয়াটিকের সেই পুরোনো প্রভাব ভেঙে পড়লেও প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে সুবিধা নেওয়ার পর সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরির এই চেষ্টা ব্যবসায়িক প্রয়োজন, নাকি রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে পুরোনো অবস্থান পুনরুদ্ধারের কৌশল—তা নিয়েই আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিজ্ঞাপন ও ইভেন্ট ব্যবসায় রাজনৈতিক প্রভাবের ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই এশিয়াটিকের নতুন করে বাজারে ফেরার চেষ্টা শুরু হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটি এবার কোন রাজনৈতিক বলয়ের আশ্রয় নিয়ে নিজেদের ব্যবসা পুনর্গঠন করতে চাইছে, সেটিও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।
