এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীবীদের সংগঠন

এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি ইস্যুতে হাইকোর্টে যাচ্ছে আইনজীবীদের সংগঠন
শেয়ার করুন

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বহুজাতিক কোম্পানির অর্থ রাজনৈতিক প্রচারণায় অপব্যবহারের অভিযোগ এনে বিষয়টি হাইকোর্টে তোলার ঘোষণা দিয়েছে আইনজীবীদের সংগঠন লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ (এলএসিএ)।

গত রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, চলমান একটি রিট পিটিশনের (নং ৬৮১২/২০২৫) আওতায় তারা এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং তাদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা আদালতের নজরে আনবে।

সংগঠনটি জানায়, সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসরত করপোরেট আইনজীবীরা সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত।

তাদের দাবি, তারা নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।

এশিয়াটিকের ১৭ ব্যাংক হিসাব জব্দ: কর ফাঁকির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে গোপনে দেশ ছাড়লেন ইরেশ

সংগঠনটির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কিছু ব্যবসায়িক গোষ্ঠী রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় অবৈধ সুবিধা পেয়েছে এবং এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ সেই তালিকায় রয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, কর ফাঁকি, অর্থপাচার ও সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয় বিবৃতিতে।

এলএসিএ আরও জানায়, এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে কারাবন্দি এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি ও দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন।

গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকেরসহ কয়েকজন পরিচালক দেশত্যাগ করেছেন বলেও সংগঠনটি অভিযোগ করেছে।

তাদের দাবি, আদালতের বিভিন্ন নথিতে এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম প্রভাবিতকরণ, বিজ্ঞাপন বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য এবং রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন আদালতে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কিছু ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বলেও দাবি করা হয়।

আইনজীবীদের সংগঠনটির অভিযোগ, এতসব মামলা ও অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এখনও গ্রামীণফোন, নেসলে বাংলাদেশ, এসিআই, ইউনিলিভার, আরলা ফুডস, মারিকো, রেকিট বেনকিজারসহ বিভিন্ন দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, এসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ‘সাপ্লায়ার কোড অব কন্ডাক্ট’, দুর্নীতিবিরোধী নীতি ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অঙ্গীকারের সঙ্গে এই সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হতে পারে।

সংগঠনটির দাবি করেছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক বহুজাতিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ডব্লিউপিপি পিএলসি ইতোমধ্যে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। একটি স্বাধীন আইনি পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

সংগঠনটির অভিযোগ, অতীত সরকারের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের পক্ষে রাজনৈতিক প্রচারণা চালিয়েছে। বিদেশি পিআর ফার্ম ও লবিস্ট নিয়োগের মাধ্যমেও সরকারের ভাবমূর্তি প্রচারে তারা ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি করা হয়।

জুলাই-মামলার আসামি ইরেশ যাকের: বিদেশে পালানো এবং মামলা থেকে অব্যাহতি, নেপথ্যে প্রভাব ও অর্থের খেলা

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এলএসিএ আরও দাবি করে, গ্রুপটি কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল তদারক করেছে, যার একটি অংশ রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

লইয়ার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন অ্যান্ড অ্যাবিউজ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর কাছে লিখিত নোটিশ পাঠালেও সন্তোষজনক সাড়া পায়নি। ফলে বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের সামনে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এসব অভিযোগ নিয়ে এশিয়াটিক থ্রি সিক্সটি গ্রুপ এবং উল্লেখিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today