বাধ্যতামূলক পদত্যাগ, চাকরিচ্যুতি, গায়েবি মামলা, মব সহিংসতা, ক্লাস-পরীক্ষা-গবেষণা থেকে বঞ্চনা; বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষক সমাজের নিরাপত্তা, মর্যাদা, পেশাগত সুরক্ষা ও একাডেমিক স্বাধীনতা নিশ্চিতের দাবি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের
আজ ৫ই অক্টোবর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই পবিত্র লগ্নে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বরেণ্য, প্রজ্ঞাবান ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক সমাজের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা।
একটি সভ্য, প্রগতিশীল ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্রে জাতির কর্ণধার এবং মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের আসন অর্জিত হয় সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ শিখরে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় এই যে, বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে আজ শিক্ষক সমাজ এক গভীর নির্মমতার শিকার।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট-পরবর্তী তথাকথিত পরিবর্তনের অন্তরালে এই রাষ্ট্রে আজ শিক্ষা, মেধা এবং শিক্ষকতার সুমহান পবিত্রতা ধ্বংস করার এক সুদূরপ্রসারী ও দানবীয় মহোৎসব চলছে।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে শিক্ষক সমাজের ওপর যে নির্মম রাজনৈতিক জিঘাংসা ও প্রতিহিংসার তাণ্ডব চালু করা হয়েছে, তার নজির ইতিহাসের পাতায় বিরল। মতাদর্শের ভিন্নতা বা কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন অভিযোগে শিক্ষক লাঞ্ছনার মতো পৈশাচিক ঘটনা আজ এই সমাজে নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
পবিত্র শ্রেণিকক্ষ থেকে জাতির আলোকবর্তিকাদের অপমান অপদস্থ করে ঘাড় ধরে নামিয়ে দেওয়ার দৃশ্য আজ আমাদের বিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়। শিক্ষার্থীরা যাতে আলোকিত শিক্ষকের ছায়া থেকে বঞ্চিত হয়, সেই হীন উদ্দেশ্যে শত শত প্রবীণ ও মেধাবী শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং মিথ্যা বানোয়াট মামলায় জড়িয়ে তাঁদের কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বন্দি রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত যেখানে মেধার টুটি চেপে ধরা হচ্ছে, ঠিক একইভাবে শিক্ষকদের তিলে তিলে ধ্বংস করার এই অপচেষ্টা মূলত একটি জাতির আত্মাকে হত্যা করারই গভীর ষড়যন্ত্র।
শিক্ষার মন্দিরগুলোকে যারা আজ ত্রাসের জনপদে পরিণত করেছে এবং শিক্ষকদের ললাটে অপমানের কালিমা লেপন করেছে, বাংলার ছাত্রসমাজ সেই কাপুরুষোচিত ও হিংস্র অপশক্তির বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ধিক্কার জানায়।
শিক্ষক সমাজ কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতের পরিচয়ে পরিচিত নন; তাঁরা সমগ্র জাতির পথপ্রদর্শক, আবহমানকালের আলোকবর্তিকা।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের এই পবিত্র লগ্নে আমাদের দ্ব্যর্থহীন ও সুদৃঢ় ঘোষণা হলো শিক্ষকদের ওপর এই দানবীয় নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের ওপর পরিচালিত সকল প্রকার মব জাস্টিস, শারীরিক নির্যাতন, জোরপূর্বক পদত্যাগ ও অন্যায় চাকরিচ্যুতির ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত সম্পন্ন করে বরখাস্তকৃত শিক্ষকদের সসম্মানে নিজ নিজ পদে পুনর্বহাল করতে হবে।
একই সঙ্গে শিক্ষক সমাজের নামে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা, বানোয়াট ও হয়রানিমূলক মামলা নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করতে হবে এবং কারাবন্দি শিক্ষকদের অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে হবে।
অন্যথায়, বাংলার সচেতন ছাত্রসমাজ ও আপামর জনসাধারণ মেধার অবমূল্যায়ন এবং শিক্ষক সমাজের এই চরম অপমান ও সভ্যতাবিরোধী এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে রাজপথে এক অপ্রতিরোধ্য ও দুর্বার গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
