সড়কে দীর্ঘ লাইন, বাসায় বন্ধ চুলা: গ্যাস সংকটে হাহাকার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে

সড়কে দীর্ঘ লাইন, বাসায় বন্ধ চুলা: গ্যাস সংকটে হাহাকার বন্দর নগরী চট্টগ্রামে
শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

 

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে তীব্র গ্যাস সংকটে থমকে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। বাসাবাড়ির রান্নাঘর থেকে শুরু করে রাজপথের যানবাহন—সর্বত্রই এখন জ্বালানি হাহাকার। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটে একদিকে যেমন চুলা না জ্বলায় চরম বিপাকে পড়েছেন গৃহিণীরা, অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে তৈরি হচ্ছে মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানবাহনের সারি।

 

​গ্যাস সংকটে চাটগাঁর ভোগান্তি: ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি, ভাড়া নিয়ে রাজপথে নৈরাজ্য

​নগরের ষোলশহর, খুলশী, আগ্রাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে গ্যাস পাম্পগুলোর করুণ চিত্র। ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনে গ্যাস নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকা গাড়ির সারি প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ২ নম্বর গেট মোড় পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। পাম্পগুলোতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। ফলে দিনের অধিকাংশ সময় লাইনেই পার করে দিচ্ছেন সিএনজি ও টেম্পোচালকেরা। খুলশী ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. হাসান চৌধুরী জানান, গত এক মাস ধরে রাত ১২টা-১টার দিকে সামান্য গ্যাস এলেও সকাল ৮টার মধ্যেই আবার তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নগরের ৫১টি ফিলিং স্টেশনের কোনোটিতেই নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নেই।

বাসাবাড়িতে জ্বলছে না চুলা, রাজপথে বাড়তি ভাড়ার খড়্গ

​গ্যাস সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে নগরের গণপরিবহন ও গৃহস্থালি জীবনে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে আটকে থাকায় অধিকাংশ সিএনজি অটোরিকশা ও টেম্পো সড়কে নামতে পারছে না। আর এই অজুহাতে রাজপথে শুরু হয়েছে যাত্রী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য।

​অক্সিজেন, মুরাদপুর ও প্রবর্তক মোড় রুটের যাত্রীদের অভিযোগ, ৫ টাকার সর্বনিম্ন বাস ও টেম্পো ভাড়া এখন দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন মালিক সমিতি চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী বাড়তি ভাড়ার কথা স্বীকার করে জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাস না পেয়ে অধিকাংশ গাড়ি বসে থাকছে, যার প্রভাবেই সাময়িকভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ভাড়া নিয়ে প্রতিদিনই যাত্রী ও চালক-হেলপারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে।

চাহিদা ও সরবরাহে বড় ব্যবধান

​কেন এই সংকট? কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে এর বিপরীতে সরবরাহ মিলছে মাত্র ২৭১ মিলিয়ন ঘনফুট। দৈনিক এই বিপুল পরিমাণ ঘাটতির কারণেই আবাসিক, বাণিজ্যিক ও পরিবহনসহ সব খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। রূপান্তরিতা প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হচ্ছে, যা চট্টগ্রামের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত নয়।

 

​কবে নাগাদ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো আশ্বাস দিতে পারছে না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই সংকটের টেকসই সমাধান না হলে বন্দরনগরীর সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনজীবনে নেমে আসা স্থবিরতা আরও ঘনীভূত হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

Visited 7 times, 1 visit(s) today