বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারালেও আবারও রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের একজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোয় ম্যাচ হয়ে যায় এলোমেলো। এই লাল কার্ডের কোন যুক্তি পাচ্ছেন না সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন।
তখন ৭১ মিনিটের খেলা চলছিল। ১-১ গোলে সমতায় দুই দল। এমন সময় ব্রিল এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে লাল কার্ড দেখিয়ে বের করে দেন রেফারি। অভিনয় করে ডাইভ দেয়ার অভিযোগ উঠে এম্বোলর বিরুদ্ধে। রেফারিংয়ের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন সুইজারল্যান্ডের কোচ মুরাত ইয়াকিন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে পরাজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে ভিএআর এবং ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, রেফারির একটি ভুল সিদ্ধান্ত তাদের পুরো ম্যাচের পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিয়েছে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষুব্ধ ইয়াকিন বলেন, ‘আমরা একটি ভুলের কারণে শাস্তি পেয়েছি। ওই লাল কার্ডের কোনো যৌক্তিকতাই ছিল না। আমি এটি কোনোভাবেই মাথায় ঢোকাতে পারছি না।’
লাল কার্ডের ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত উল্লেখ করে সুইস কোচ বলেন, ‘পরিস্থিতিটা একদম সাধারণ ছিল; এর মধ্যে কোনো বাজে উদ্দেশ্য ছিল না। রেফারির এই ভুল আমাদের শাস্তি দিয়েছে এবং আমাদের পুরো গেম প্ল্যান নষ্ট করে দিয়েছে।’
রেফারি ও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সমন্বয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে ইয়াকিন আরও যোগ করেন, ‘সিদ্ধান্তটি একেবারেই অবিশ্বাস্য ছিল। আমি এর সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। সেখানে হালকা সংযোগ হয়েছিল ঠিকই, তবে কীভাবে রেফারি এবং ভিএআর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছালেন, তা আমার বোধগম্য নয়।’
অবশ্য আর্জেন্টিনা রেফারিদের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে কিছুটা সংযত ছিলেন ইয়াকিন। তিনি বলেন, ‘আমি বলব না যে তাদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল। ম্যাচটি দুই দলের মধ্যেই ফেয়ার এবং উন্মুক্ত ছিল। উভয় দলই ফুটবল খেলেছে। তবে আজ ফুটবল জেতেনি। আমরা একটা ভুলের কারণে শাস্তি পেয়েছি, যা আমাদের পক্ষের কোনো ভুল ছিল না।’
ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেওয়া সেই মুহূর্তটি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি সুইস কোচ। তিনি বলেন, ‘এটি একটি সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত ছিল যা ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দিয়েছে। আমরা এখন অভিযোগ করতেই পারি—তবে আমি আর্জেন্টিনাকে অভিনন্দন জানাই।’
