গভীর রাতে সমুদ্র সৈকতে বান্ধবী-সমন্বয়কসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত জুলাইযোদ্ধা ছুরিকাঘাতে নিহত

গভীর রাতে সমুদ্র সৈকতে বান্ধবী-সমন্বয়কসহ আপত্তিকর অবস্থায় ধৃত জুলাইযোদ্ধা ছুরিকাঘাতে নিহত
শেয়ার করুন

বান্ধবী ও নারী সমন্বয়ক পুলিশ হেফাজতে

❐ নিজস্ব প্রতিনিধি


কক্সবাজার সৈকতের কবিতা চত্বর পয়েন্টে ছুরিকাঘাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাইযোদ্ধা খোরশেদ আলম নামে নিহত হয়েছেন।

গতকাল ২৪শে মার্চ, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা বান্ধবী নারী সমন্বয়ক তারিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ, জানান কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমিউদ্দিন।

নিহত খোরশেদ আলম (২৬) কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসুলুর ঘোনা এলাকার বাসিন্দা এবং শাহ্ আলমের ছেলে। তিনি শহরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কোনো পদ-পদবী না থাকলে খোরশেদ সংগঠনের সক্রিয় কর্মী বলে জানান শহর ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইনজামামুল হক।

খোরশেদের বন্ধু শাহজাহান জানান, তিনি মোহাজেরপাড়ায় নিজ বাসার সামনে লুডু খেলছিলেন। সমন্বয়ক তারিন ফোন করে জানান ছুরিকাঘাতে আহত খোরশেদ কবিতা চত্বর ও শৈবাল পয়েন্টের মাঝামাঝি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তারিন ‘জুলাইযোদ্ধা’ পরিচয় দিয়ে আশপাশের মানুষের সহায়তা চাইলেও উপস্থিত কেউ এগিয়ে আসেনি বলে জানান শাহজাহান।

তিনি আরও জানান, খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়, এ সময় তিনি বারবার পানি চাইছিলেন।

বান্ধবী তারিনের দাবি, দুই যুবক খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করে, তারা ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে কবিতা চত্বর এলাকায় খোরশেদ ও তারিনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে প্রতিবাদ জানান স্থানীয়রা। তখন খোরশেদ নিজেকে জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন। এসময় কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি হলে অজ্ঞাত যুবকরা খোরশদকে ছুরিকাঘাত করে সরে পড়েন।

পরে পরিচিত কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার পেট ও পায়ে ছুরিকাঘাতের বেশ কয়েকটি চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কক্সবাজার শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে হাসপাতালের সামনে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন।

খোরশেদের বান্ধবী ও সমন্বয়ক তারিনের দাবি, সৈকতে অবস্থানকালে একদল দুর্বৃত্ত তাদের ঘিরে ধরে খোরশেদের কাছে মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। এক পর্যায়ে আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ তুলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।

কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রিদুয়ানুল হকের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে খোরশেদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কক্সবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালিদ বিন সাঈদ বলেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই প্রভাবিত বা ভিন্ন খাতে নেয়া যাবে না। ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেসব ফুটেজ সংগ্রহ করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকা কর্মীরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবেন।

এছাড়া খোরশেদকে উদ্ধারে যারা এগিয়ে গিয়েছিলেন তারা যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বলেন, কবিতা চত্বর সৈকতে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অন্ধকারে এ ঘটনা ঘটে। ছুরিকাঘাত অবস্থায় খোরশেদকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি উদঘাটনে আমরা তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। প্রাথমিকভাবে কারা এবং কী কারণে এ হামলা চালিয়েছে-সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর বিস্তারিত জানানো হবে।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ছমিউদ্দিন বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও তার ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতের সঙ্গে থাকা বান্ধবীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

Visited 37 times, 1 visit(s) today