❐ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী রাহিদ খান পাভেলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বামধারার শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গতকাল ছাত্রলীগ কর্মী- অভিযোগ তুলে রাহিদ খান পাভেলের ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালায় জাতীয় ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসীরা। পাভেল ৭ই মার্চ নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছে- এমন অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তির সন্ত্রাসী মো. সাইফুল্লাসহ ২০-২৫ জন এনসিপি কর্মী মব করে হল থেকে তুলে নিয়ে গাছের সাথে বেঁধে বেধড়ক পিটিয়ে অর্ধমৃত করে দেয়।
এ ঘটনাকে আরও নৃশংস রূপ দেন সাইফুল্লাসহ। তিনি ছাত্রলীগ কর্মী পাভেলকে ‘খাবার’ এর সাথে তুলনা করে, সেই খাবার খেয়ে সেহরি সম্পন্ন করেছেন বলে নৃশংস উল্লাস করে ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দেন। যা ছড়িয়ে পড়লে তুমুল সমালোচনা হয় দেশজুড়ে।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ‘সন্ত্রাসবিরোধী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’-এর ব্য্যানারে আজ ৯ই মার্চ, সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (একাংশ) ঢাবি শাখার সদস্যসচিব অদিতি ইসলাম বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেই প্রমাণ ছাড়াই তাকে পেটানো হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশক্তি নামক সংগঠনের কর্মীরা একজনকে পাঁচ দফায় পিটিয়েছে, শিকল দিয়ে মেরেছে এবং তার আঙুল থেঁতলে দিয়েছে। এই ধরনের অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফিউর জামান জুয়েল বলেন, জুলাই হয়েছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু বর্তমানে জুলাইয়ের দোহাই দিয়ে যে মব করা হচ্ছে, তা জুলাই চেতনার পরিপন্থী। এরা জুলাইয়ের সামাজিক চুক্তিকে ভঙ্গ করে ছাত্র রাজনীতিকে ভঙ্গুর করছে, যা জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আবু মুজাহিদ আকাশ বলেন, কেউ যদি আগে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকে বা অপরাধ করে থাকে, তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা যায়। কিন্তু তাকে মব করে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা বা মেরে ফেলা সমাধান নয়।
তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে হত্যা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের উদাহরণ টেনে মব হামলার নিন্দা জানান।

