স্পোর্টস ডেস্ক
তেহরান/লামের্দ, ২ মার্চ ২০২৬: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের লামের্দ শহরে একটি স্পোর্টস হলে (জিম/জিমনেসিয়াম) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ২০ জন নারী ভলিবল খেলোয়াড় নিহত হয়েছে। এই হামলা ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় চালানো হয়, যখন কয়েক ডজন কিশোরী মেয়ে ভলিবল, বাস্কেটবল ও জিমন্যাস্টিকস প্রশিক্ষণ নিচ্ছিল।
ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া (যেমন আল মায়াদিন, ফার্স নিউজ এজেন্সি, তাসনিম ও আইআরআইবি) এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, হামলায় স্পোর্টস হলের ছাদে মিসাইল আঘাত হানে, যার ফলে ভবনের বড় অংশ ধসে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ১৫ জন নিহতের খবর এলেও পরে সংখ্যাটি ১৮-২০-এ পৌঁছায়। লামের্দের গভর্নর আলি আলিজাদেহ বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও জায়োনিস্ট শাসন মেয়ে ছাত্রীদের খেলার সময় স্পোর্টস হলে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।” হামলায় শতাধিক আহত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ও ‘রোয়ারিং লায়ন’-এর অংশ, যা ইরানের পরমাণু স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চলছে। একই দিনে দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে বলে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, যৌথ হামলায় সারা দেশে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলার পর “অবিরাম চিৎকার” ও বিশৃঙ্খলার বর্ণনা দিয়েছেন। স্পোর্টস হলের মূল কোর্ট, দর্শক গ্যালারি, চেঞ্জিং রুম ও কোচের অফিস ধ্বংস হয়ে গেছে। ইরান এই হামলাকে “নির্মম আগ্রাসন” বলে অভিহিত করেছে এবং পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট স্পোর্টস হলের হামলা নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানি মিডিয়া দাবি করছে, হামলাগুলো সামরিক লক্ষ্যের পাশাপাশি বেসামরিক এলাকায়ও পড়েছে।এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির, এবং মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
