ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন ইরানের সুপ্রীম লিডার?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর কে হবেন ইরানের সুপ্রীম লিডার?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

তেহরান, ১ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির নেতৃত্বের শূন্যতা পূরণে সংবিধান অনুসারে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুসারে একজন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হয়েছে।

 

ইরানের সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, সর্বোচ্চ নেতা মারা যাওয়া, পদত্যাগ করা বা বরখাস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ পরিষদ (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস)কে যত দ্রুত সম্ভব একজন উত্তরসূরী নিয়োগ করতে হবে। এই সময়কালে রাষ্ট্রপতি, বিচার বিভাগের প্রধান এবং অভিভাবক পরিষদ (গার্ডিয়ান কাউন্সিল) থেকে একজন আইনজ্ঞ—যিনি এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিল কর্তৃক নির্বাচিত—এই তিনজনের সমন্বয়ে গঠিত একটি অস্থায়ী পরিষদ সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে। যদি কোনো সদস্য দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন, তাহলে তার স্থলাভিষিক্ত নির্বাচিত করা হবে।

 

লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুসারে এই অস্থায়ী পরিষদ গঠন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন জুরিস্ট এই দায়িত্ব পালন করবেন। এই পরিষদ যত দ্রুত সম্ভব—আজকের মধ্যেই—গঠিত হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় ঐক্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সশস্ত্র বাহিনী “ইরানকে টুকরো টুকরো করার পরিকল্পনা” মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে।

 

বিশেষজ্ঞ পরিষদ, যাতে ৮৮ জন উচ্চপদস্থ শিয়া ধর্মীয় নেতা রয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের একমাত্র দায়িত্বশীল সংস্থা। এই পরিষদকে “যত দ্রুত সম্ভব” সভা করে নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনিকে দ্রুত নির্বাচিত করা হয়েছিল, যা দেখায় চাপের মুখেও এই প্রক্রিয়া কার্যকর হতে পারে।

 

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। হামলায় খামেনির সঙ্গে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা পরিষদ গঠন ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের সভা আয়োজনে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরী হিসেবে তার ছেলে মোজতবা খামেনি, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই, হাসান খোমেনি (আয়াতুল্লাহ খোমেনির নাতি)সহ কয়েকজনের নাম আলোচনায় ছিল, কিন্তু কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছিল না।

 

লারিজানি আরও বলেন, গতকাল ইরান মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা “ধ্বংসাত্মক” ছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আজকের প্রতিক্রিয়া তাদের জন্য আরও বেদনাদায়ক হবে।” এই পরিস্থিতিতে অস্থায়ী পরিষদের দায়িত্ব শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা ও প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করাও।

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (রয়টার্স, এপি, আল জাজিরা, বিবিসি) জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে যাতে শূন্যতা দীর্ঘায়িত না হয় এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা না ছড়ায়। তবে যুদ্ধাবস্থা ও হামলার ধারাবাহিকতা এই উত্তরাধিকার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।

 

Visited 13 times, 1 visit(s) today