নিজস্ব প্রতিবেদক
তেহরান/মস্কো/বেইজিং, ১ মার্চ : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ ও সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাশিয়া, চীন, হিজবুল্লাহ, হামাসসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো এই হত্যাকে “আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন” ও “সার্বভৌমত্বের উপর আক্রমণ” বলে নিন্দা করেছে এবং ইরানের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে পাঠানো এক চিঠিতে খামেনির মৃত্যুকে “সিনিক্যাল হত্যা” (cynical murder) বলে বর্ণনা করেছেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি “মানবতার সকল নিয়ম ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন”। পুতিন খামেনিকে “অসাধারণ রাষ্ট্রনায়ক” বলে স্মরণ করেছেন, যিনি রাশিয়া-ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উন্নয়নে ব্যক্তিগত অবদান রেখেছেন। রাশিয়া ইরানের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনা অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াবে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনালাপে খামেনির হত্যা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতাকে খোলাখুলি হত্যা করে শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা অগ্রহণযোগ্য।” চীন ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানিয়ে অবিলম্বে সামরিক কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি রক্ষার জন্য আলোচনার পক্ষে কথা বলেছে।
হিজবুল্লাহ নেতা নাইম কাসেম খামেনিকে “শহীদ” বলে স্মরণ করেছেন এবং বলেছেন, “আমেরিকান-জায়োনিস্ট অক্ষের দ্বারা এই হত্যা মুসলিম বিশ্ব, বিশেষ করে শিয়াদের বিরুদ্ধে খোলা যুদ্ধের ঘোষণা।” তিনি জানিয়েছেন, খামেনির পথ অব্যাহত থাকবে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ তার উত্তরাধিকার বহন করবে। হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের অঙ্গীকার করেছে।
হামাসসহ অন্যান্য ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোও শোক প্রকাশ করেছে। ইরাকের শিয়া-সমর্থিত কোয়ালিশন “কোঅর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক” খামেনির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তাকে “শহীদ নেতা” বলে অভিহিত করেছে এবং তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। ইরাক সরকারও তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অন্যদিকে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইরানের ওপর হামলাকে নিন্দা করে বলেছেন, এটি অঞ্চলে “আগুনের চক্র” সৃষ্টি করতে পারে। তবে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলাকেও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন।
খামেনির মিত্ররা সাধারণত এই ঘটনাকে “আগ্রাসন” ও “শাসন পরিবর্তনের চেষ্টা” হিসেবে দেখছেন এবং ইরানের প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের অধিকারকে সমর্থন করছেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনিকে “ইতিহাসের সবচেয়ে দুষ্ট ব্যক্তিদের একজন” বলে উল্লেখ করে ইরানিদের শাসন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
এই প্রতিক্রিয়াগুলো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তির আহ্বান জানাতে বাধ্য করেছে।
(সূত্র: ক্রেমলিন, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, হিজবুল্লাহ বিবৃতি, আল জাজিরা, রয়টার্স, এপি, টাইম, বিবিসি)
