পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা ও ধর্ষণ: জিজ্ঞাসাবাদে রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আটক চাচা

পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা ও ধর্ষণ: জিজ্ঞাসাবাদে রোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন আটক চাচা
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে দাদি ও নাতনিকে হত্যার ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দুই যুবকের মধ্যে শরীফুল ইসলাম জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি নিহত কিশোরীর চাচা বলে জানা গেছে।

পাবনা জেলা ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম জানান, হত্যার পরপরই একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় শনিবার রাত ১০টার দিকে শরীফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরীফুল স্বীকার করেছেন, যৌন হয়রানির চেষ্টায় বাধা পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি জয়নাল খাঁর মা সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) হত্যা করেন।

গ্রেপ্তার শরীফুল ইসলাম ও নিহতরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। জামিলা স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। ঘটনার পর জামিলার বোন বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জামিলার বাবা কাজের প্রয়োজনে প্রায়ই ঢাকার সাভারে বড় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সে কারণে জামিলা তার দাদি সুফিয়া খাতুনের সঙ্গে গ্রামেই বসবাস করতেন। ঘটনার সময়ও তিনি বাড়িতে ছিলেন না।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শরীফুল পেশায় ট্রাকচালক এবং ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, গত ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতে বাজার পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে জামিলাদের বাড়িতে যান। সে সময় দাদি বাড়িতে না থাকায় কিশোরী জামিলাকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এসময় জামিলা তাকে চড় মারে। এ ঘটনায় অপমানিত হয়ে ফিরে যান।

এর কয়েকদিন পর, ২৭শে ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তিনি আবারও বাড়িতে যান এবং আগের ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। এ সময় সুফিয়া খাতুন আপত্তি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে শরীফ পাশে পড়ে থাকা একটি কাঠের বাটাম দিয়ে সুফিয়া খাতুনের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। বৃদ্ধা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে জামিলা চিৎকার করতে শুরু করে। এতে শরীফ তাকেও একই কুন্নি (রাজমিস্ত্রির সরঞ্জাম) দিয়ে জামিলার মাথায় ও কপালে আঘাত করে।

জামিলা মাটিতে পড়ে গেলে শরীফ তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর গলা টিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ সরিষা খেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরে ​প্রাথমিকভাবে ঈশ্বরদী থানার ওসি মমিনুজ্জামান এবং ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, ‘কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।’

এর আগে, শুক্রবার (২৭শে ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতের পর ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামে কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বের হলেও পরে পরিস্থিতি শান্ত দেখে সবাই ঘরে ফিরে যান। পরদিন শনিবার সকালে বাড়ির উঠানে বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

এ সময় নাতনি জামিলা আক্তারকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে তল্লাশি শুরু হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু দূরে একটি সরিষা খেতে তার বিবস্ত্র মরদেহ উদ্ধার করে এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার মো. শামীম হোসেন এবং পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস দেন।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পরবর্তীতে জানানো হবে।

Visited 64 times, 1 visit(s) today