ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষস্থানীয় জেনারেলরা ‘নিয়ন্ত্রণহীনহয়ে পড়েছেন বলে বিশ্লেষক ও আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
খামেনি ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি আইআরজিসি-র মিসাইল বাহিনীসহ সামরিক সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার অনুপস্থিতিতে পাওয়ার ভ্যাকুয়ামে কয়েকজন শীর্ষ জেনারেল নিজেদের খেয়াল-খুশিমতো লক্ষ্যবস্তুতে মিসাইল হামলা চালাচ্ছেন বলে দাবি উঠেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও আইআরজিসি-র টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, খামেনির হত্যার প্রতিশোধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ’ চালানো হচ্ছে। এর মধ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটি (বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব) এবং এমনকি ওমান ও সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটিতেও মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা খামেনির ‘উত্তরাধিকার রক্ষা’ করে চলবে এবং ‘আগ্রাসীদের শিক্ষা’ দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্বীকার করেছেন যে, আইআরজিসি এখন ‘স্বাধীনভাবে’ কাজ করছে এবং সরকারের সরাসরি নির্দেশের অধীনে নেই।
তিনি বলেছেন, “ওমানে হামলা আমাদের পছন্দ ছিল না” — যা ইঙ্গিত করে যে আইআরজিসি-র কয়েকটি অংশ খামেনির পূর্বনির্ধারিত নির্দেশ বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে চলছে। এই ‘স্বাধীনতা’ খামেনির মৃত্যুর পর সৃষ্ট নিয়ন্ত্রণহীনতার ফল বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র পূর্বাভাস অনুসারে, খামেনির মৃত্যুতে আইআরজিসি-র হার্ডলাইনাররা ক্ষমতা দখল করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে আইআরজিসি-র শীর্ষ কমান্ডারদের (যেমন মোহাম্মদ পাকপুর, আলি শামখানি) মৃত্যুতে সংগঠনের কমান্ড চেইন ভেঙে পড়েছে।
নতুন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে নিয়োগ করা হলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন যে মিসাইল হামলাগুলো ‘ফ্র্যাগমেন্টেড’ এবং ‘অসংগঠিত’ — যা খামেনির অনুপস্থিতিতে জেনারেলদের ‘অটো-ফায়ারিং’ মোডে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
এই নিয়ন্ত্রণহীনতা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ‘অশনি সংকেত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন:
- আইআরজিসি-র অভ্যন্তরীণ ফ্যাকশনাল লড়াই বাড়তে পারে।
- মিসাইল হামলা আরও অন্ধভাবে চললে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডানসহ অন্যান্য দেশ জড়িয়ে পড়তে পারে।
- পারমাণবিক স্থাপনা বা মিসাইল স্টকপাইল নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে ‘রোগ’ এলিমেন্টের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ইরানে এখনও সাকসেশন প্রক্রিয়া চলছে। আইআরজিসি নতুন নেতা নিয়োগের জন্য আইনি প্রক্রিয়া বাইপাস করার চেষ্টা করছে বলে খবর। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ‘রেজিম চেঞ্জ’ আশা করলেও আইআরজিসি-র হার্ডলাইনাররা ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির। ঘণ্টায় ঘণ্টায় নতুন হামলা ও প্রতিক্রিয়া আসছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ‘রোগ জেনারেলদের’ নিয়ন্ত্রণহীনতাকে যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে দেখছে।
