❐ বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সদ্য সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর-কে ঘিরে দুবাইয়ে একটি রাজকীয় ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রায় ৪৫ কোটি টাকা মূল্যের একটি ফ্ল্যাট তিনি তার মেয়ে মেহরিন সারা মনসুরের জন্য কিনেছেন। যদিও তিনি গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, জীবনে কখনো বিদেশে অর্থ পাঠাননি এবং সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি তার মেয়ের একক মালিকানাধীন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দুবাইয়ের ভূমি বিভাগের রেকর্ড অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি ২০২৪ সালের ২৪শে ডিসেম্বর নিবন্ধিত হয়। যার অবস্থান—আল জাদ্দা এলাকায়। সংশ্লিষ্ট দলিলে মালিক হিসেবে আহসান এইচ মনসুর ও মেহরিন সারা মনসুর—উভয়ের নাম উল্লেখ রয়েছে।
এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দলিলে কোথাও আহসান মনসুরকে ‘অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, ক্রেতার সাথে সম্পর্কের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের বিধি অনুযায়ী, কেউ কেবল অভিভাবক হলে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। কেবল নাম থাকলে তা সরাসরি মালিকানার ইঙ্গিত বহন করে। ফলে ‘অভিভাবক’ দাবির সঙ্গে দলিলের তথ্যের অসঙ্গতি স্পষ্ট হচ্ছে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৯শে ডিসেম্বর গভর্নর জিবুতি সফরে যান, ২২শে ডিসেম্বর ইথিওপিয়ায় অবস্থান করেন এবং একই দিন আদ্দিস আবাবা থেকে দুবাই পৌঁছান। ২৪শে ডিসেম্বর রাতে দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। অর্থাৎ ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের দিন তিনি পুরো সময় দুবাইয়েই ছিলেন।
দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের বিধি অনুযায়ী, সম্পত্তি নিবন্ধনের সময় ক্রেতার সরাসরি উপস্থিতি ও স্বাক্ষর প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট দলিলে কোনো প্রতিনিধির নাম নেই; বরং রয়েছে স্বাক্ষর। এতে তার সরাসরি উপস্থিতির সম্ভাবনাই জোরালো হয়।
এর আগে আহসান এইচ মনসুর দাবি করেছিলেন, তিনি বিদেশে কোনো অর্থ পাঠাননি এবং সম্পত্তিটি তার মেয়ের। তবে দলিলের তথ্য, রেজিস্ট্রেশনের সময় তার দুবাইয়ে উপস্থিতি এবং মালিকানা সংক্রান্ত নিয়ম—সব মিলিয়ে বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস, অর্থ স্থানান্তরের প্রক্রিয়া এবং মালিকানার প্রকৃত কাঠামো—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা আসেনি। সংশ্লিষ্ট নথি ও তথ্য যাচাই করে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত বিতর্ক থামার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

