❐ বিশেষ প্রতিবেদক
বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সরকারদলীয় মতাদর্শী আইনজীবীদের সংঘটিত বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর, বার বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি, আদালত কক্ষে জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ এবং বিচারকের প্রতি অশোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক আচরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফ্রান্সভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিসমেকার্স বাংলাদেশ ইন ফ্রান্স (জেএমবিএফ)।
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার বরিশালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর একাধিক নেতার জামিন মঞ্জুরকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ’র এজলাসে যে আক্রমণাত্মক ও আইনবিরোধী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
জেএমবিএফ মনে করে, আদালত কক্ষে বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেঞ্চে আঘাত, বিচারকের প্রতি আঙুল তুলে চিৎকার এবং বিচারিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান সুস্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
একটি বিচারিক আদেশের বিরুদ্ধে সংবিধান ও প্রচলিত আইনে আপিল, রিভিশন বা বাতিল চাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আদালতকে সংঘর্ষের মঞ্চে পরিণত করা বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা বলে বিবৃতিতে জানায় সংগঠনটি।
জেএমবিএফ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মানবাধিকার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহানুর ইসলাম বলেন, “বিচারিক আদেশে ভিন্নমত থাকলে উচ্চ আদালতে প্রতিকার চাওয়ার পথ খোলা রয়েছে। বিচারককে ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি করা বা আদালতের পরিবেশ নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সরাসরি বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের শামিল।”
সংগঠনটি অবিলম্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে। নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জেএমবিএফ-এর চার দফা দাবি:
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ।
- রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত অবস্থান বা প্রভাব-প্রতিপত্তি নির্বিশেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
- ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার এবং আদালত অবমাননার বিরুদ্ধে কঠোর নীতিমালা প্রয়োগ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনজীবী সমাজ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অন্যতম অংশীদার। আদালতের মর্যাদা রক্ষা, শালীনতা বজায় রাখা এবং আইনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন তাঁদের পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। আদালতের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা বিচারককে অপমান কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জেএমবিএফ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সুনাম, নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

