ইউনূস সরকারের বিদায়বেলায় স্বাস্থ্য খাতে ‘লুটপাটের মহোৎসব’: পুষ্টি প্রকল্পে পৌনে ৯ হাজার কোটির তড়িঘড়ি বরাদ্দ

ইউনূস সরকারের বিদায়বেলায় স্বাস্থ্য খাতে ‘লুটপাটের মহোৎসব’: পুষ্টি প্রকল্পে পৌনে ৯ হাজার কোটির তড়িঘড়ি বরাদ্দ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ দিনগুলোতে স্বাস্থ্য খাতে বিপুল অঙ্কের প্রকল্প বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তীব্র হয়েছে। বিশেষ করে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্পে অস্বাভাবিক ব্যয়ের বিষয় সামনে এসেছে, যেখানে প্রতিটি কম্পিউটারের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ টাকা।

সূত্র অনুসারে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে প্রস্তাবিত একটি বড় প্রকল্পে (Health and Nutrition Services Improvement) মূলত ১৩ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব ছিল। এতে ১১,৭৪০টি কম্পিউটার কেনার জন্য ৮০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা হিসাব করলে প্রতি কম্পিউটারের খরচ পড়ে প্রায় ৬.৮৫ লাখ টাকা। বাজারে উচ্চমানের কম্পিউটারের দাম ৫০-১০০ হাজার টাকার মধ্যে থাকলেও এই অতিরিক্ত বরাদ্দকে ‘সাগরচুরি’ বলে সমালোচনা হচ্ছে।

এছাড়া প্রকল্পে বিল্ডিং নির্মানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, পরামর্শক ও কনসালটেন্সি ফি-এর জন্য ২১৬ কোটি টাকা এবং কর্মকর্তাদের ভ্রমণ ব্যয়ে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্পটি একনেকে উত্থাপনের আগেই এসব গড়মিল ধরা পড়ে। ফলে প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে (সংশোধন করে) প্রকল্পটিকে পৌনে ৯ হাজার কোটি টাকায় (আনুমানিক ৮,৭০০-৯,০০০ কোটি) তড়িঘড়ি অনুমোদন দেওয়া হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এর সভাপতিত্বে একনেকের সভায়।

অভিযোগ উঠেছে যে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পগুলোতে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। নুরজাহান বেগম ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার অধীনে স্বাস্থ্য খাতে নিয়োগ-বদলি, পরামর্শক নিয়োগ এবং প্রকল্প বরাদ্দে তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের (যেমন তুহিন ফারাবী) নামে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অ্যান্টি-করাপশন কমিশনসহ বিভিন্ন সূত্রে এসব বিষয় তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শেষ পর্যায়ে একনেকে একাধিক বড় প্রকল্প (মোট ৪৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি) দ্রুত অনুমোদন নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তারা মনে করছেন, এসব বরাদ্দ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং দুর্নীতির সুযোগ বাড়াবে।

ইউনূসের মিডিয়া উয়িং বা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। আসন্ন সরকারের জন্য এসব প্রকল্পের স্বাধীন অডিট ও তদন্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

Visited 127 times, 1 visit(s) today