ইরান চুক্তি নিয়ে ১০ দিনের আল্টিমেটাম: সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

ইরান চুক্তি নিয়ে ১০ দিনের আল্টিমেটাম: সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী “সম্ভবত ১০ দিনের মধ্যে” স্পষ্ট হবে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হবে কিনা, নাকি পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতে রূপ নেবে। রাজধানী ওয়াশিংটনে তার গঠিত শান্তি পর্ষদের উদ্বোধনী বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানই তার অগ্রাধিকার হলেও প্রয়োজনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং তা ইতিবাচক ছিল বলে জানানো হয়েছে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টারা ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তবে অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর ও স্থায়ী চুক্তি করা সহজ নয়।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অঞ্চলটিতে মোতায়েন করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান তাদের সামরিক স্থাপনাগুলো আরও সুরক্ষিত করেছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সামাজিক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজ বিপজ্জনক হলেও তা ধ্বংস করার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে।

সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভায় মতভেদ দেখা দিয়েছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, আইনসভার অনুমোদন ছাড়া কোনো সামরিক অভিযান চালানো উচিত নয়। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধক্ষমতা আইনের আওতায় আইনসভা প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।

কিছু আইনপ্রণেতা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হলে তা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত হাজারো মার্কিন সেনা প্রতিশোধমূলক আঘাতের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

শুরুতে শান্তি পর্ষদকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে এর কার্যপরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রায় দুই ডজন দেশের প্রতিনিধিত্ব থাকা এই কাঠামো ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

সব মিলিয়ে, ইরান ইস্যুতে আগামী ১০ দিন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today