শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মুর্তজা মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধনে এসে শিবিরের সংবর্ধনা নিলো মেসুত ওজিল

শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মুর্তজা মেডিকেল সেন্টার উদ্বোধনে এসে শিবিরের সংবর্ধনা নিলো মেসুত ওজিল
শেয়ার করুন

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল তারকা মেসুত ওজিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মুর্তজা মেডিকেল সেন্টারের নবায়নকৃত ভবন উদ্বোধন করেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের ছেলে বিলাল এরদোগানের সঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তায় এসে তিনি এ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কিন্তু ইসলামী ছাত্র শিবিরের (ছাত্র শিবির) সদস্যদের দেওয়া সংবর্ধনা গ্রহণ করায় ওজিলের প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এই প্রসঙ্গ যোগ করে সমালোচকরা বলছেন যে, শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মুর্তজা হত্যাকাণ্ডে জড়িত আলবদর বাহিনীর সদস্যরাই পরবর্তীকালে ছাত্র শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসেছিলেন। সেই বুদ্ধিজীবী হত্যার মাস্টারমান্ট যুদ্ধপরাধী সংঘঠনের কাছে সংবর্ধনা নেয়া মেসুত ওজিল কে কি কেউ বাংলাদেশের ইতিহাস জানিয়েছে?

ড. মোহাম্মদ মুর্তজা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক এবং প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসর আলবদর বাহিনীর হাতে তাঁকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আলবদরের নেতৃত্বে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা, যাদের অনেকেই পরবর্তীকালে ছাত্র শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা সংগঠনটির উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত। আলবদরকে জামায়াতের ছাত্র সংগঠনের (তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘ) সশস্ত্র শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।

অনুষ্ঠানে ছাত্র শিবিরের সদস্যরা ওজিলকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। অনেকে লিখেছেন, “যে সেন্টারটি শহিদ বুদ্ধিজীবী ড. মুর্তজার নামে, সেখানে তাঁর হত্যাকারীদের উত্তরসূরি সংগঠনের সংবর্ধনা গ্রহণ করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অবমাননা।”

কেউ কেউ বলছেন, ওজিলের রোহিঙ্গা সহায়তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও এই রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা উপেক্ষা না করাটা ঠিক হয় নি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান, তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন এবং টিকা-র প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ এরেন। বিলাল এরদোগান বলেন, ওজিল আগামীকাল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাবেন, শিশুদের সঙ্গে ফুটবল খেলবেন এবং রমজানের প্রথম ইফতারে অংশ নেবেন।

ওজিলের সফরকে মানবিক বলে প্রশংসা করলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি তুরস্কের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ হতে পারে। ওজিল বা তার সঙ্গীদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। আগামীকাল কক্সবাজারে সফর শেষ হবে।

Visited 30 times, 1 visit(s) today