নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সোমবার তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতকালে দুই শীর্ষ নেতা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। প্রধান উপদেষ্টা তার দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর অসামান্য সহযোগিতা ও অবদানের জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই বিদায়ী সাক্ষাতের মাধ্যমে প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় সেনানিবাসের বাইরে দায়িত্ব পালন করে অবশেষে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলন আর অরজকতা পরিস্থিতিতে দেশের নিয়ন্ত্রন, জনমানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়েছিল সেনাবাহিনী তারপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
সরকারি সূত্র ও প্রজ্ঞাপন অনুসারে, সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রথম দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। এরপর একাধিক দফায় ৬০ দিন করে মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ বাড়ানোর পর এই ক্ষমতা ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ ছিল। ফলে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ারের মোট সময়কাল ছিল প্রায় ৫৩০ দিন (সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত)। এই সময়ে সেনা কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধির বিভিন্ন ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রয়োগ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করেন।
আগস্ট ২০২৪-এর পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ব্যাপকভাবে নিয়োজিত হয়। আইএসপিআর-এর তথ্য অনুসারে, আগস্ট ২০২৪-এর শুরুতে দেশব্যাপী ২০৬টি ক্যাম্প স্থাপন করে ৫৮টি জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়। এছাড়া, রাজধানীর ২৯টি থানাসহ দেশের ৪১৭টি থানায় সেনা সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে পুলিশের হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র উদ্ধার, থানা গুছিয়ে তোলা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
নির্বাচনকালীন সময়ে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) নিরাপত্তায় ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ পর্যন্ত সেনা সদস্য নিয়োগ করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
এই দীর্ঘ সময়ের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেনাবাহিনী দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষায় অবদান রেখেছে। বিদায়ী সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টা সেনাবাহিনীর এই অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন যে, সেনাবাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন হতো।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও এই সাক্ষাতকে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, সেনাবাহিনী সবসময় সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার এই প্রক্রিয়া দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
এদিকে, সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পুরোপুরি পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর ওপর ন্যস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
