নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক মহলের খবর অনুসারে, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
এই মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ের পাশাপাশি জোটসঙ্গী দলগুলোর নেতাদেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দলীয় ও নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, বিএনপি জোটের শরিক দলগুলো থেকে যোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে যাচ্ছেন। এছাড়া ববি হাজ্জাজের নামও আলোচনায় রয়েছে। এই নেতারা নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়ে জয়ী হয়েছেন বা জোটের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় এর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন যোনায়েদ সাকি, যিনি গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং শ্রমিক-কৃষক-ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এবারের নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়ে সংসদে এসেছেন। তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি জোটের বৈচিত্র্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে যোনায়েদ সাকী ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচন করে টেলিস্কোপ প্রতীকে তিন শতাধিক ভোট পেয়েছিলেন।
সম্ভাব্য তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি এবং ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা। ২০১৮ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়, বিশেষ করে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী গণআন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। ছাত্রনেতা নুরুল হক নুর এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহন করেছেন, এর আগে তিনি ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন।তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব এবং গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে মন্ত্রী পরিষদে তার স্থান পাওয়া উল্লেখযোগ্য।
আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)-এর চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিএনপি জোটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। ভোলা-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা ও জোটের ভারসাম্য রক্ষায় তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা উজ্জ্বল।
এই তিন নেতার পাশাপাশি জোটের অন্যান্য নেতাদেরও (যেমন ববি হাজ্জাজ) মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার আলোচনা চলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, মন্ত্রিসভা নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে গঠিত হবে, যাতে জোটের শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়। এতে দলের ঐক্য ও জাতীয় সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।
আগামীকালের শপথ অনুষ্ঠানের পর মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে, বিশেষ করে নতুন মুখদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে।
