❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরাতে গণ অধিকার পরিষদের ভেতরে ‘গুপ্ত জাশি’ (জামায়াত-শিবির) সক্রিয়—এমন অভিযোগ করেছেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
তিনি জানান, দলের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা এসব শক্তির ‘অত্যাচার’-এর কারণেই তিনি দল ছেড়েছেন।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব কথা জানান। তার দাবি, এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের রাজনৈতিক সম্ভাবনাকে ‘গলা টিপে হত্যা’ করেছে জামায়াত-শিবির।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, জুলাইয়ের পরে বাংলাদেশে তরুণদের রাজনীতির একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। নিজেদের রাজনীতি বাঁচিয়ে রাখতে সেটাকে জামায়াত-শিবির গলাটিপে হত্যা করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৯ দফা ঘোষণা দেওয়ার পরও আব্দুল কাদের যেন ডাকসুর ভিপি হতে না পারেন, সে জন্য জামায়াত-শিবির একযোগে কাজ করেছে।
রাশেদ বলেন, জাশি প্রোপাগান্ডা, সহানুভূতি ও ওয়েলফেয়ার কার্ড খেলেছে। নতুনদের দল সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তাদের সঙ্গে পেরে উঠেনি। ঠিক এনসিপিও যাতে দল হিসেবে নিজস্ব শক্তিতে দাঁড়াতে না পারে, এজন্য শুরু থেকেই এনসিপিতে জামায়াত-শিবিরের কর্মী ঢুকিয়ে দেয়।
তিনি আরও দাবি করেন, আমি আগেই বলেছি এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতাকর্মী জাশি (জামায়াত-শিবির) থেকে আসা। এরা কোনোদিন জাশির মতামতের বাইরে বিকল্প কিছু করতে দেবে না। এভাবে একটি নতুন সম্ভাবনাকে হত্যা করেছে জাশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন রাশেদ খান। পরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেন।
নিজের পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে ওই পোস্টে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘আমি গণ অধিকার পরিষদের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জাশির অত্যাচারের জন্যই দল ছেড়েছি। এরা জামায়াতের সঙ্গে গণ অধিকার পরিষদকে নেওয়ার সমস্ত প্লান করেছিল। আমি রাজি না হওয়ায়, আমাকে ব্যাপকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত করে। এরা সেসময় নির্বাচনের আগে নুরুল হক নুরকে পর্যন্ত বহিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণ অধিকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা জাশি এখন নুরুল হক নুরকে যাতে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় সেই প্লান নিয়ে, নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য কাজ করছে। নিজেদের কর্মী ঢুকিয়ে গণ অধিকার পরিষদ ও এনসিপি দুটো দলের একটাকেও নিজেদের রাজনীতি করতে দেয়নি জাশি। এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদের সম্ভাবনাকেই গলা টিপে হত্যা করেছে তারা।’
