তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরু দালাই লামার প্রথম গ্র্যামি পুরস্কারকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন সরকার। বেইজিং এই আন্তর্জাতিক সংগীত পুরস্কারকে চীনবিরোধী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছে।
৯০ বছর বয়সী দালাই লামা অডিওবুক, বর্ণনা ও গল্প বলার বিভাগে এই পুরস্কার অর্জন করেন। তাঁর লেখা ধ্যান ও দর্শনভিত্তিক গ্রন্থের অডিও সংস্করণের জন্য তাঁকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পুরস্কার প্রাপ্তির পর দালাই লামা জানান, তিনি এটি গভীর কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং বিষয়টিকে মানবজাতির প্রতি সম্মিলিত নৈতিক দায়িত্বের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন।
তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ১৪তম দালাই লামা কেবল একজন ধর্মীয় নেতা নন, বরং তিনি ধর্মের আড়ালে চীনবিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতায় যুক্ত একজন রাজনৈতিক নির্বাসিত ব্যক্তি। তিনি আরও বলেন, কোনো পক্ষ যদি এই পুরস্কারকে চীনবিরোধী রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তা চীন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
১৯৫৯ সালে তিব্বতের রাজধানী লাসায় বিদ্রোহ দমনের পর দালাই লামা নিজ ভূমি ত্যাগ করে নির্বাসনে যান এবং তখন থেকেই তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। বহু মানুষের কাছে তিনি তিব্বতের স্বায়ত্তশাসন আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
চীন সরকার তিব্বতকে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালনা করলেও, আন্তর্জাতিক মহলে তিব্বতি ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় দমনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। পাশাপাশি দালাই লামার উত্তরাধিকার নিয়েও বেইজিং ও তাঁর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ রয়েছে।
তিব্বতি বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, দালাই লামারা পুনর্জন্মের মাধ্যমে আবির্ভূত হন। চীনের দাবি, ভবিষ্যতের দালাই লামা তিব্বতেই জন্ম নেবেন এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বীকৃত হবেন।
অন্যদিকে দালাই লামা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর উত্তরসূরি কোনো স্বাধীন দেশে জন্ম নেবেন এবং এ বিষয়ে চীনের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
গ্র্যামি পুরস্কারকে কেন্দ্র করে এই প্রতিক্রিয়া আবারও দালাই লামা ও চীনা সরকারের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও আদর্শিক দ্বন্দ্বকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
